ততক্ষণে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া হয়ে উঠেছেন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মুখে গোলপোস্টের সামনে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তার দুর্দান্ত সেভগুলো মুগ্ধ করেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।
কেপ ভার্দের জন্য এই ১ পয়েন্ট ছিল জয়ের সমান। আর সেই অর্জনের সবচেয়ে বড় নায়ক ভোজিনিয়া। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তে প্রিয়জনদের পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরে পড়ে তার কণ্ঠে। বিশেষ করে মাকে সঙ্গে রাখতে না পারার কষ্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ভোজিনিয়া বলেন, ‘খেলা শেষে আমি কেঁদেছি। ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছি, কিন্তু তারা আজ আর বেঁচে নেই। কয়েক বছর আগে দুজনই মারা গেছেন। আর ভিসাজনিত সমস্যার কারণে মা-ও এখানে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন ছিল, সেটাও আমরা জোগাড় করতে পারিনি।’
মাঠে বীরত্বগাথার রচয়িতা ভোজিনিয়ার এই মানবিক গল্প তাই ছুঁয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। ভোজিনিয়ার কষ্ট অনুভব করে তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পাশে থাকতে চায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হোটেল ডেভেলপার ও হসপিটালিটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপ। পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট ও হোটেল নির্মাণ এবং এর মালিকানায় বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।
রাজীব খানের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় চ্যানেল২৪ আয়োজিত ‘গোল্ডস্যান্ডস প্রবাসী বিশ্বকাপ’ অনুষ্ঠানে বুধবার অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করে গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপের সিইও শাহাদাৎ হোসেন বাহার বলেছেন, ‘ভোজিনিয়া এখন জাতীয় বীর। পৃথিবীর মধ্যে একজন বীর। তার একটি ঘটনা আমাকে সাংঘাতিক পীড়া দিয়েছে। তার বিজয়ের হাসির কথা ছিল। কিন্তু সে কান্না করেছে। কাকে নিয়ে কান্না করেছে? মা-কে নিয়ে। যেটা আমাদের সবচেয়ে আবেগের জায়গা। ওই পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি নিজেও একজন মা ভক্ত।’
‘আমি ভেবেছিলাম তার মা- তার সঙ্গে আছে। কিন্তু টাকার অভাবে সে তার মাকে খেলা দেখতে নিয়ে যেতে পারেননি। ভোজিনিয়া তার দেশকে জিতিয়েছে। কিন্তু মায়ের স্বপ্নকে সে বাস্তবে দেখাতে পারেননি। যেটা তার জন্য কষ্টের মুহূর্ত। ফুটবল আসলে কিন্তু শুধু গোলের খেলা কিংবা ট্রফির খেলা নয়। এটার সঙ্গে অনেক আবেগ যুক্ত।’
‘আমি ফিফা ও বাফুফের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যদি ভোজিনিয়া তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে চায় গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপ তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারব না। আমি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফিফা ও বাফুফেকে যদি অনুরোধ করি, তাকে মাঠে বসে খেলা দেখানোর জন্য যদি কোনো ধরনের সহযোগিতার দরকার হয় গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপ প্রস্তুত আছে। ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখতে পারে সেই সহযোগিতা আমরা করবো।’
এদিকে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বসে নেই। সিএনএনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভোজিনিয়ার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ব্যবস্থা করছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভোজিনিয়ার মায়ের কোনো ভিসার আবেদন তারা পাননি। এছাড়া এই ঘটনার পর বিশ্বকাপে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের নিকটাত্মীয়দের জন্য ভিসা জামানতের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। তবে একটি বিষয়ও সামনে এসেছে। ভোজিনিয়ার মায়ের এই মুহূর্তে বৈধ পাসপোর্ট নেই। তিনি নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন।