২০২৫ সালের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য ইএসপিএনক্রিকইনফোর বার্ষিক পুরস্কারে নারী বিভাগের সব কটি পুরস্কারই জিতেছেন ভারতের ক্রিকেটাররা। যে বছর ভারত প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই সাফল্যের প্রতিফলনই দেখা গেছে পুরস্কার তালিকায়।
অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়া দুর্দান্ত শতকের জন্য একদিনের ম্যাচে ব্যাটিং পুরস্কার জিতেছেন জেমিমাহ রদ্রিগেস। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া পাঁচ উইকেট নিয়ে বোলিং পুরস্কার পেয়েছেন দীপ্তি শর্মা। আর বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডে সীমিত ওভারের দুই ধরনের সিরিজ জয়ের জন্য বর্ষসেরা অধিনায়ক হয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নারী প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে অপরাজিত ৬৬ রান করে দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার জন্য ওই প্রতিযোগিতার নারী টি-টোয়েন্টি লিগ ব্যাটিং পুরস্কারও পেয়েছেন হারমানপ্রীত।
নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও পরাজয়ের বেদনা সইতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে পুরুষদের দলে বড় সাফল্য এসেছে। দীর্ঘদিন বড় শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। লর্ডসে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে দলটি।
সেই ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত শতকের জন্য টেস্ট ব্যাটিং পুরস্কার জিতেছেন এইডেন মার্করাম। আর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ৬৬ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখার পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বর্ষসেরা পুরুষ অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন টেম্বা বাভুমা। তার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে টেস্ট সিরিজে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করেছে এবং অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডেও একদিনের সিরিজ জিতেছে।
ভারতের বিপক্ষে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মার্কো ইয়ানসেন টেস্ট বোলিং পুরস্কারের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তবে পার্থে অ্যাশেজের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার জন্য এই পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক।
পুরুষদের টি-টোয়েন্টি লিগে বোলিং পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ। বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালের বিপক্ষে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়ে এই কৃতিত্ব দেখান তিনি।
এই বিভাগের ব্যাটিং পুরস্কার পেয়েছেন হোবার্ট হারিকেনসের ওপেনার মিচেল ওউইন। সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ৩৯ বলে শতক করে তিনি দলের প্রথম বিগ ব্যাশ শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। এটি ছিল প্রতিযোগিতার দ্রুততম শতকের যৌথ রেকর্ড।
নারী টি-টোয়েন্টি লিগ বোলিং পুরস্কারও এসেছে নারী প্রিমিয়ার লিগ থেকে। উত্তর প্রদেশ ওয়ারিয়র্সের ২১ বছর বয়সী পেসার ক্রান্তি গৌড় প্রথম মৌসুমেই দিল্লি ক্যাপিটালের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন। তার শিকারদের মধ্যে ছিলেন জেমিমাহ রদ্রিগেস, মেগ ল্যানিং ও শেফালি ভার্মা।
২০২৫ সালে পুরুষ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এই টুর্নামেন্ট থেকেই এসেছে একদিনের ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সগুলো। লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়েন ইব্রাহিম জাদরান।
ওয়ানডের বোলিং পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের লেগ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। দুবাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। এক সপ্তাহ পর একই মাঠে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপাও জেতে।
ছয় মাস পর একই মাঠে ভারত জেতে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদব। তার এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি পুরুষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং পুরস্কার জিতেছেন।
পুরুষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং পুরস্কার পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। ম্যানচেস্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬০ বলে অপরাজিত ১৪১ রান করেন তিনি। এটি ছিল ইংল্যান্ডের দ্রুততম শতক এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৩০৪ রানের রেকর্ড দলীয় সংগ্রহ গড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার বেউ ওয়েবস্টার হয়েছেন পুরুষ বিভাগের সেরা অভিষিক্ত খেলোয়াড়। সাতটি টেস্টে চারটি অর্ধশতক ও আটটি উইকেট নিয়ে তিনি নজর কাড়েন। সিডনিতে ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্টেই সিরিজ নির্ধারণী অর্ধশতক করেন তিনি।
নারী বিভাগের সেরা অভিষিক্ত হয়েছেন ভারতের পেসার এন শ্রী চরাণি। মাত্র ২০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে তিনি দারুণ সাহসিকতা দেখান। পরে নারী বিশ্বকাপে তিনি ১৪ উইকেট নেন, যা ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
চরাণি দুটি পুরস্কার জিতেছেন। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং পুরস্কারও পান। সেই ম্যাচে ওপেনার স্মৃতি মান্ধানার প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতক ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পারফরম্যান্সের জন্য মান্ধানা নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং পুরস্কার জিতেছেন।
সহযোগী দেশের বিভাগে ব্যাটিং পুরস্কার পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ও’ডাউড। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭০ রান তাড়া করে জয়ের ম্যাচে তিনি ১৩০ বলে অপরাজিত ১৫৮ রান করেন, যা একদিনের ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
আর সহযোগী দেশের বোলিং পুরস্কার পেয়েছেন ইতালির পেসার হ্যারি মানেনতি। হেগে বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি ইতালিকে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পেতে বড় ভূমিকা রাখেন।