শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ঘাড় কোমর ও হাঁটু ব্যথার চিকিৎসা লেজারে কতটা কার্যকর

ডা. মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী

ঘাড়, কোমর ও হাঁটুর ব্যথার কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে লেজার থেরাপি বর্তমানে একটি আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের মেরুদণ্ড অসংখ্য ছোট ছোট হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলোকে বলা হয়ে থাকে কশেরুকা বা ভার্টিব্রা। প্রতিটি কশেরুকার মাঝখানে থাকে ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক, যা গাড়ির শক অ্যাবজরবারের মতো চাপ শোষণ করে এবং নড়াচড়ায় সহায়তা করে। এসব ডিস্ক বা কশেরুকায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে, বিশেষ করে ঘাড় ও কোমরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে স্পাইনাল কর্ড প্রবাহিত। এখান থেকে স্নায়ু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এখানে সামান্য চাপ পড়লেও ব্যথা ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ আঘাত বা ভুল ভঙ্গিতে নড়াচড়ার কারণে অনেক সময় ডিস্ক স্থানচ্যুত হয়। একে বলে ডিস্ক প্রোল্যাপস। এতে স্পাইনাল কর্ড বা নার্ভরুটে চাপ সৃষ্টি হয়। কোমরের লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপসে রোগীর কোমর বা মাজায় তীব্র ব্যথা হয় এবং বসা, দাঁড়ানো বা হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়। এই ব্যথা অনেক সময় ঊরু, হাঁটু, পায়ের পেছনের অংশ, গোড়ালি কিংবা পায়ের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঝিনঝিন অনুভূতি, বোধশক্তি হ্রাস ও পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

একইভাবে ঘাড়ের সারভাইকাল ডিস্ক প্রোল্যাপসে ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়াতে পারে এবং হাতে ঝিনঝিন, অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হাত-পা উভয়ই আক্রান্ত হতে পারে।

প্রচলিত চিকিৎসায় অনেক সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমানো হয়, পাশাপাশি ফিজিওথেরাপির সাহায্যে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তবে আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে পারকিউটেনিয়াস লেজার ডিস্ক ডিকম্প্রেশন বা পিএলডিডি অত্যন্ত কার্যকর। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মাত্রার লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ডিস্কের চাপ কমানো হয়। ফলে স্থানচ্যুত ডিস্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভরুটের ওপর থেকে চাপ সরে যায়।

লেজারের অপটোথারমো-মেকানিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়। এই চিকিৎসায় কাটাছেঁড়া বা অজ্ঞান করার প্রয়োজন নেই। তাই ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীর ক্ষেত্রেও এটি নিরাপদ। উন্নত বিশ্বে এখন ডিস্ক প্রোল্যাপসের বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই খোলা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে লেজার চিকিৎসা ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহৃত লেজার রশ্মি নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই। বাংলাদেশেও বর্তমানে ঘাড় ও কোমরসহ মেরুদণ্ডজনিত ব্যথার চিকিৎসায় এই লেজার পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ কনসালট্যান্ট

ইনস্টিটিউট অব লেজার সার্জারি ও হাসপাতাল

আফতাবনগর হাউজিং, সেক্টর-২, ব্লক-ডি, ঢাকা

০১৭৫১৯৩১৫৩০, ০১৬১৮৪১৮৩৯৩


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা