ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা–৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের করা এ নেতা এবারসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনীতিবিদ হাফিজ উদ্দিন আহমদকে সবাই চিনলেও অনেকেই ক্রীড়াবিদ হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্পর্কে জানেন না। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন আহমদ যুবক বয়সে অখণ্ড পাকিস্তানের একজন তারকা ফুটবলার ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়ার ছিলেন। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়কত্ব করেন এ ফুটবলার।
শুধু ফুটবলার নয়, হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের অন্যতম সেরা একজন দৌড়বিদ ছিলেন। তিনি ১৯৬৪, ১৯৬৫ এবং ১৯৬৬ এই তিন মৌসুম পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। ১০০ ও ২০০ মিটারে রেকর্ড টাইমিংয়ে স্বর্ণ পদক জেতেন।
খেলোয়াড় জীবন শেষে ক্রীড়া সংকঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানেও পান সর্বোচ্চ সফলতা। দেশের ফুটবল থেকে শুরু এশিয়ার ফুটবল ও বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনেও কাজের সুযোগ পান। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি ছিলেন। তিনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নির্বাচিত সহসভাপতি ছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল (ফিফা) আপিল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে এ কমিটিই বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় নিষিদ্ধ করে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৮০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।