ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে সরকারকে প্রথম দিন থেকেই বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই তিনটি বিষয়ই হবে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ী মহলের ভাষ্য, জ্বালানি সংকট বড় সমস্যা হলেও তার চেয়েও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
গত দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীরা তাঁদের সঞ্চিত অর্থ উত্তোলনে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে গত দেড় বছরে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে, কিছু ক্ষেত্রে বন্ধও হয়ে গেছে। আবাসিক এলাকাতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে, যা নাগরিক জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া—মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে বিনিয়োগ বাড়বে না, কর্মসংস্থানও তৈরি হবে না। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি।
উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ ও স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাতে পারেন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে তবেই টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে—কত দ্রুত তারা জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয় তার ওপর।