চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও স্পিড বোটের ধাক্কায় মো. মোরশেদ নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এ সময় নৌকা থেকে পড়ে আরও এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত জেলে মোরশেদ (৩৫) মনোহরপুরের মনিমুল ইসলামের ছেলে। আর নিখোঁজ ব্যক্তি মনোহরপুরের চাঁন মণ্ডলের ছেলে মো. ফকির (৩০)।
তবে বিএসএফের স্পিড বোটের ধাক্কায় বাংলাদেশি আহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও রাবার বুলেট ছোড়ার তথ্য নেই বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মনোহরপুর সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন মোরশেদ ও ফকির। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা দূর থেকে তাদের ওপর রাবার বুলেট ছোড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফের টহলের জন্য ব্যবহৃত স্পিডবোট উঠিয়ে দেওয়া হয় মোরশেদ ও ফকিরের নৌকার ওপরে। এতে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়।
পরে অন্য জেলেরা আহত অবস্থায় মোরশেদকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে, জরুরি বিভাগের রেজিষ্ট্রার খাতায় মোরশেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতের কথা লেখা হয়েছে। আর এঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ফকির।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিরা দেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে চলে যান এ সময় বিএসএফের টহলদল তাদের ধাওয়া করে এবং স্পিডবোটের ধাক্কায় একজন আহত ও অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সেখানে রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, তারা কাউকে আটক করেনি। তিনি নদীতে পড়ে গিয়েই নিখোঁজ রয়েছেন।’