ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি: আজকের জিজ্ঞাসা’ শিরোনামে পাবলিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মঞ্জুর এলাহী’ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি পরিবর্তনের জন্য ৬টি চালিকাশক্তির(ড্রাইভার) কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণনা (ন্যারেটিভ), প্রতিষ্ঠান (ইন্সটিটিউশান), সামাজিক রীতিনীতি (নরমস), উদ্যোগ (ইনিশিয়েটিভস), ক্ষমতা (পাওয়ার), এবং গোষ্ঠী তন্ত্র (ইন্টারেস্টেড গ্রুপ) এর কথা বলেন।
তার বক্তব্যে ওই চালিকাশক্তির প্রভাবগুলোর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো কিভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে তা তুলে ধরেন।
ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘গার্মেন্টস ও রেমিটেন্সের মতো সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে আমাদের বের হতে হবে। রাষ্ট্রীয় আচারে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে ধারন করতে পারছি না। তারুণ্যের আধিক্য বা ডেমোগ্রাফিক ডিভেডেন্ডও খুব একটা কাজে লাগাতে পারছি না।’
এসব কিছু মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এক জায়গায় আটকে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কিছু ক্ষেত্রে নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তারমধ্যে রয়েছে রাস্ট্র ধারনার সংস্কার। এখানে রাষ্ট্রকে মানুষের ওপরে না ভেবে, মানুষের জন্য রাষ্ট্র ভাবতে হবে। দেশের পেশাদারদের মধ্যে পেশাদারিত্বের ঘাটতি কমাতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নসহ দূরদর্শিতা দিয়ে শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা এসব বিষয়ে আমাদের সামাজিক-রীতি (নরমস) পরিবর্তন করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ দিকে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর উদাহরণ টেনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এটাই এ দেশের ইতিবাচক দিক। সংকটের সময়ে এদেশের নাগরিকদের নানান উদ্যোগ ও উদ্ভাবনা সংকট কাটাতে কাজে লেগেছে। তাই সর্বোপরি পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘উন্নয়নের সুফল সমাজের ভয়েজ দুর্বল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এসব মানুষের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের সমাজে নায্যতার যে ঘাটতি রয়েছে তা দূর করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।