ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির মূর্তি বসানো হয়েছিল। অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর মূর্তিটি পেতে যাচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা। আর মেসির সে মূর্তি বর্তমানে পিডব্লিউডিতে বিশ্রামে আছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা সফরে আসেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তখন কলকাতার লেকটাউনে তার একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়, কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয় অবয়ব নিয়ে। কেউ কেউ কটাক্ষ করেন মেসির বদলে অন্য কয়েকজন খ্যাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে ওই মূর্তির মিল বেশি। এর মধ্যে মূর্তি তৈরি এবং স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসু গত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
গত মাসে মেসির ওই মূর্তিটি হাওয়ায় দুলতে শুরু করে। প্রথমে সেটি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, কিন্তু দুর্ঘটনা এড়াতে শেষমেশ সেটি স্থানচ্যুত করা হয়। নিচের অংশের বেদি ভেঙে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোলদাতা আর্জেন্টিনার তারকার মূর্তিটি নিউ টাউনের ইকো পার্কে বসানো হবে বলে জানালেন শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার সদস্য শারদ্বত। তিনি জানান, সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের ছোট ছোট নিদর্শন রয়েছে ইকো পার্কে। সুবিশাল এলাকায় উন্মুক্ত জায়গাও অনেকটা রয়েছে। ফলে সেখানেই মেসি মূর্তির পুনর্স্থাপন করা যায় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শারদ্বত জানিয়েছেন, লেকটাউনে অতীতে যে সমস্যাগুলো নিয়ে এই মেসি মূর্তি বসানো হয়েছিল তা সংস্কার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই স্থাপন করা হবে। বর্তমানে মূর্তিটি রয়েছে বাগুইআটির পিডব্লিউডি গুদামে।
শারদ্বত মজার সুরে বলেন, ‘এখনও অবধি মেসি শুয়ে রয়েছেন। রেস্ট নিচ্ছেন পিডব্লিউডিতে। তার পর আমরা মেসিকে একটু ওয়ার্ম আপ করিয়ে নিয়ে যাব ইকো পার্কে।’
নাম না করে সাবেক মন্ত্রী সুজিতকে কটাক্ষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকাপ আবহে সত্যিকারের মেসির মূর্তি বসালেই ভালো হতো। যাই হোক, বিশ্বকাপ আবহেই যাতে মূর্তিটি স্থাপন করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। নগরোন্নয়ন দপ্তর অনুমতি দিলেই এই মূর্তিটি বসে যাবে।’