নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে আজও দৃপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে ২৩০ বছরের প্রাচীন স্বরমুশিয়া খাঁ বাড়ি তিন গম্বুজ জামে মসজিদ। প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতি ও সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও মসজিদটি টিকে আছে বাংলার মুসলিম স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ১২১৭ হিজরিতে বাংলার বারো ভূঁইয়ার সর্দার ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে সময়ের স্থাপত্যশৈলী অনুযায়ী মসজিদটি ছিল অত্যন্ত টেকসই ও শৈল্পিক। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ থেকে ৮ ফুট, যা সাধারণত রাজপ্রাসাদ কিংবা দুর্গের স্থাপত্যে দেখা যায়। ফলে এই মসজিদে রাজকীয় দৃঢ়তার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অতীতের ঐশ্বর্যের ছোঁয়া।
প্রথম দিকে মসজিদটিতে এক কাতারে প্রায় ১৮ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। প্রায় তিন দশক আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে মসজিদের বারান্দা সম্প্রসারণ করা হলে বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ৭০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেঝেতে নতুন টাইলস বসানোসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে, যা মসজিদটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি গম্বুজ, যা দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে।
২৩০ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে থাকা এই মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি গ্রামীণ মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করে আসছেন এবং অনুভব করছেন আরব-ইসলামি প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর আবহ।
মসজিদের নির্মাতা মুসা খাঁর বংশধর মোতাহার হোসেন খান বলেন, “এই মসজিদ শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। স্থানীয়দের উদ্যোগে আমরা মসজিদটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে এটি আরও বহু বছর ইসলামের আলো ছড়িয়ে যেতে পারে।”