বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

অবৈধভাবে দেশে আনা হচ্ছে মেক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, বিষাক্ত মাকড়সা!

প্রতিবেদকের নাম

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এ সব প্রাণীর মধ্যে কর্ণ স্নেক, ডামফি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ নানা ধরনের প্রাণীও রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বন বিভাগ।

বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া এবং জীববৈচিত্রে প্রভাব পড়ার শঙ্কা থাকায় আইন অনুযায়ী এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও কেন এগুলো বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে? আর কীভাবেই বা বাংলাদেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এসব বিদেশি প্রাণী- সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা বলছেন, আইনের তোয়াক্কা না করেই বিদেশ থেকে এসব প্রাণী বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। যার ফলে দেশের জীববৈচিত্রে যেমন প্রভাব পড়ছে, তেমনি রোগবালাই বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে।

মিরপুরের রূপনগরে আবাসিক ভবনের ছাদে অ্যাকুরিয়াম তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের বিদেশি প্রাণী। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযানে এক হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করা হলেও, সেখানে প্রায় ছয় হাজার প্রাণী ছিল বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, মাকড়সা, সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি প্রাণী অভিযানের আগেই বিক্রি করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সাপ, মাকড়সা, ব্যাঙ ও কচ্ছপ। একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রাণী উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে যে, এসব প্রাণী আসলে বাংলাদেশে কেন আনা হচ্ছে?

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলছেন, ‘বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন শখের বসে পুষছেন- এমনকি অবাক করার মতো বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন লালনপালন করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে অনেকে এখন ট্যারান্টুলা মাকড়শা লালনপালন করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে

বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা

তিনি বলছেন, অনুমতি সাপেক্ষে যেসব প্রাণী বিদেশ থেকে আনার সুযোগ রয়েছে, মূলত তার আড়ালেই অবৈধ প্রাণী বাংলাদেশে আনছেন অনেকে। বিমানবন্দরে স্বর্ণ বা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি থাকলেও, পোষা প্রাণী আনার ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন আদনান আজাদ।

যদিও বিমানবন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও অবৈধ প্রাণী বিক্রি ও লালন-পালনের বিষয়ে নজরদারি রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ বন বিভাগের। এ ছাড়া বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধারেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। কয়েকদিন আগেই ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে আট প্রজাতির ৪২টি দেশীয় বন্য প্রাণী উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বিদেশি প্রাণী যাতে দেশে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘অবৈধ এই ব্যাবসা পৃথিবীর সব দেশেই আছে কিন্তু যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা