বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, নেতৃত্ব দেবেন কারা?

প্রতিবেদকের নাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ আলোচনা হওয়ার কথা। পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্য থেকে কারা নেতৃত্ব দিবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানা যায়, শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং তাদের প্রতিনিধিদলকে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

শরিফ আরও বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করছি যে ‘‘ইসলামাবাদ আলোচনা’’ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো খবর দিতে পারব।’

তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়পক্ষই জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে তারা দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর এই সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর পর লেবাননও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

শেহবাজ শরিফ দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘সর্বত্র’ কার্যকর এবং লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসরায়েল পরে জানিয়েছে, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও মিশরও মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে। চীন ইরানকে আলোচনায় আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে অতীতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ইসলামাবাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের সম্পর্ক উষ্ণ। সৌদি আরব ও চীনসহ আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরদার হয়েছে।

পাকিস্তান ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। এর সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে ইরানের কোনো দূতাবাস না থাকায় পাকিস্তান সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে কারা?

পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা