গোপালগঞ্জে একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে বালুভর্তি ট্রাক খালে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এতে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আজ রোববার সকালে বালুভর্তি একটি ১০ চাকার ট্রাক জেলা শহরের পাচুড়িয়া ব্রিজ দিয়ে ঘোনাপাড়ার দিকে যাওয়ার পথে এমন ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বালুভর্তি ট্রাক ব্রিজটি পার হওয়ার সময় হঠাৎ সেটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এ সময় একটি ইজিবাইক ও একটি সাইকেলও খালে পড়ে যায়। এতে ট্রাকচালক, হেলপার এবং ইজিবাইকচালকসহ চারজন আহত হন।
তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে খালে পড়ে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের কাজ এখনও শুরু হয়নি।
গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা সমর বাইন বলেন, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ এমন কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নির্দেশনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়ক বিভাগ দেয়নি। আবার স্থানীয়দের নিষেধ উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বোঝাই একটি ট্রাক ব্রিজ পারাপারের চেষ্টা করে। ফলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘ব্যবসায়িক কারণে প্রতিদিন আমাদের এই ব্রিজ পার হয়ে শহরে আসতে হয়। এখন ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। শহরে যেতে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হবে। আমি মনে করি, সড়ক বিভাগের উদাসীনতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।’
এক শিক্ষার্থীর জানান, আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়া এলাকায়। এই ব্রিজ পার হয়েই প্রতিদিন স্কুল ও প্রাইভেটে যেতে হয়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় খুব অসুবিধায় পড়েছি। এখন অনেক পথ ঘুরে স্কুল ও প্রাইভেটে যেতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক বিভাগ বিকল্প কোনো রাস্তা বা যাতায়াতের ব্যবস্থা না করেই দুটি বেইলি ব্রিজের একটি অপসারণ করে। ফলে অবশিষ্ট ব্রিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আমি মনে করি, সড়ক বিভাগ যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না। দীর্ঘদিন যাবত বেইলি ব্রিজটি মৃত্যুর ফাঁদের মতো ছিল।’
গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে সড়ক বিভাগ কাজ শুরু করেছে। ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি পুনরায় ওই স্থানে স্থাপন করা হবে। এতে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।’
ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ না করে শহরের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় টেন্ডারে ডাইভারশন সড়কের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।’
জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর এই স্থানে সড়ক কেটে শহরের মধুমতি নদীর সঙ্গে পাচুড়িয়া খালের পুনঃসংযোগ স্থাপন করা হয়। জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেখানে দুটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের নকশা প্রণয়নে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। সম্প্রতি ওই ব্রিজ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।