জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) ২০২৬ সেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমিতির কার্যালয়ে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ)বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একটি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় দখল ও একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন চাঁদাবাজির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা এই হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের নেতৃত্বে কয়েকশো নেতাকর্মী কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের জুনায়েত শেখ এবং সময়ের আলোর মুশফিকুর রহমান ইমনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন জানান, তফসিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন সংগ্রহের দিন থাকলেও গত রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে কার্যক্রম পণ্ড করে দেয়।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন যে, জবি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই দেশিয় অস্ত্রসহ সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, জকসু জিএস ও জবি শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মীরা অন্য সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত সাংবাদিকদের অন্য একটি অংশও দাবি করেছে যে, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩৫ জন নিয়মিত সাংবাদিককে বাদ দিয়ে শিবিরপন্থী সাংবাদিকদের মাধ্যমে সমিতি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কথা বলতে গেলে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় মাহামুদুর রহমান নাজিদ, মিলন হোসেন ও ইয়াসিন সাইফসহ ১২ জন আহত হন এবং তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিবও আহত হন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে উভয় পক্ষের আহত সাংবাদিকরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষই এই বর্বরোচিত হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে গেল।