জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে চলমান ভর্তি প্রক্রিয়ায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে উপাচার্যের কাছে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। পৃথিবীর বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। যেমন—ব্যাংক কর্মকর্তারা সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পান, রেলওয়ের কর্মীরা যাতায়াতে ছাড় পান এবং হাসপাতালের কর্মীরা পরিবারের জন্য বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। তেমনি বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়েও কর্মীদের সন্তানদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, চাকরির কোটা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার বিষয়টি এক নয়। চাকরির ক্ষেত্রে কোটা থাকলে প্রতিযোগিতার সুযোগ কমে যায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তি অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সুযোগ কমায় না। কারণ এতে নির্ধারিত আসন সংখ্যা কমে না কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয় না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে এই প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাকে এক করে দেখা দুঃখজনক এবং এটি একটি ভুল ধারণা। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন সেবা দেওয়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তান ন্যূনতম যোগ্যতা নিয়ে এখানে পড়ার সুযোগ পেলে তা মানবিক ও সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
নেতারা আরও বলেন, যে সুবিধা একজন কর্মীর প্রাপ্য, তা বাতিলের দাবি তোলা ন্যায্য নয়—বিশেষ করে যখন এতে অন্য কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় না। তাই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জাবি অফিসার সমিতির সভাপতি মো. আজমল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল আহছান বেপারী।