শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের দায়ে নেপালে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার কী আছে পুতিনের ‘চলন্ত দুর্গ’ অরাস সেনাট লিমোজিনে? ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে হামলার দাবি সরকারি বাহিনীর ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি স্বাক্ষর জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়লে আল্লাহর সাহায্য চাইবেন যেভাবে ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হুথিদের ঠেকাতে ট্রাম্পের সামরিক সহায়তা চাইলেন সৌদি যুবরাজ দুর্নীতির দায়ে দুই সাবেক ফুটবল প্রেসিডেন্ট আজীবন নিষিদ্ধ বিএনপির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের উপদেষ্টা হিসেবে রিজভীকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ডিএসইর ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবি

প্রতিবেদকের নাম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে চাকরিচ্যুত ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের স্ব-স্ব পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ডিএসই কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।

ডিএসই থেকে চাকরিচ্যুত ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের স্ব-স্ব পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ডিএসই কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ‘ডিএসই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গত ২ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রতি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ জন অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি যেভাবে আড়াল ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর।’

তারা বলেন, ‘জনস্বার্থে এবং পুঁজিবাজারের সকল স্টেকহোল্ডারের অবগতির জন্য আমরা এই বেআইনি ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরছি। ‎​আমাদের মূল আপত্তির বিষয়সমূহ:

১. কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গণছাঁটাই ও ছদ্মবেশী ‘‘ট্রান্সফরমেশন’’: ডিএসই কর্তৃপক্ষ তথাকথিত ‘অর্গানাইজেশনাল ট্রান্সফর্মেশন’-এর অজুহাত দিলেও বাস্তবে এর কোনো লিখিত, অনুমোদিত বা স্বচ্ছ রূপরেখা কখনো কর্মীদের দেখানো হয়নি। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে স্থায়ী পদে কর্মরত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কোনো অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ, সতর্কীকরণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে স্রেফ “পজিশন উইল নো লংগার বি রিকোইয়ার্ড” লিখে এক লহমায় চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা আইনি ও নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

‎‎২. ‘ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩’ এবং বোর্ড সিদ্ধান্তের সরাসরি লঙ্ঘন: এক্সচেঞ্জ ডিমুটালাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৩-এর ধারা ১৮(ছ) অনুযায়ী ২০১৩ সালের পূর্বের কর্মকর্তাদের চাকরির স্থায়িত্ব, ধারাবাহিকতা ও অর্জিত সুবিধা সম্পূর্ণ সংরক্ষিত। এছাড়া, ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের ৭৮৯তম সভায় (৬ জানুয়ারি ২০১৫) পুরোনো কর্মীদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করা উক্ত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

‎‎​৩. অমানবিক সিদ্ধান্তকে ‘মানবিক’ আখ্যা দেওয়ার অপচেষ্টা: ‎​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত দুই মাসের বেতন দেওয়াকে ‘মানবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, যা হাস্যকর। দীর্ঘ পেশাগত জীবন, সামাজিক সম্মান ও ভবিষ্যতের যে অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, তা সামান্য কিছু অর্থে ঢাকা সম্ভব নয়। এছাড়া, শ্রম আইনের দোহাই দেওয়া হলেও ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও করপোরেট সুশাসনের মৌলিক নীতিগুলো এখানে সম্পূর্ণ পদদলিত হয়েছে।

‎‎​৪. কর্মীবাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক ও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা: ‎​পর্যায়ক্রমে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার এই অবৈধ প্রক্রিয়ার ফলে ডিএসই-এর পুরো কর্মীবাহিনীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত দেশের সমগ্র পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

‎‎​৫. বানোয়াট অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ও বকেয়া পাওনা গ্রহণ না করা: ‎​ডিএসই কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে সংক্ষুব্ধ কর্মীরা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়াচ্ছেন—আমরা এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা প্রতিটি তথ্য দালিলিক প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে তুলে ধরছি। উল্লেখ্য, এই অবৈধ অবসান লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করে কোনো প্রকার চূড়ান্ত পাওনা গ্রহণ না করেই কর্মীরা তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

‎৬. অবিলম্বে অন্যায্য চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত বাতিল: কোনো নীতি বা মানদণ্ড ছাড়া ১৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে স্ব-স্ব পদে পুনর্বহাল করতে হবে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা: চাকরিচ্যুতির এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্য কারণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন রক্ষা: আইন ও বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত অধিকার ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

‎‎বিজ্ঞপ্তিতে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, নীতিনির্ধারক, ডিএসই শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী এবং সচেতন দেশবাসীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে, একতরফা বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনি নথি ও প্রকৃত সত্য যাচাই করার আহ্বান জানান। এবং আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের পুঁজিবাজারে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও আইনি উপায়ে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা