শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সারাদেশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে চাইলে কোনো বাধাই তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, ’আসুন আগামী তিন মাস আগামী তিন মাস আমরা এই যে ডেঙ্গুর যে সমস্যাটা এই সমস্যাটার আমরা সমাধান কর চেষ্টা করবো। হয়ত আমরা ১০০% পারবো না কিন্তু অন্তত ৮০% আমরা পারবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আছেন কম বেশি অনেকেরই ধারণা আছে যে, কারো যদি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। ঠিক আছে ওষুধপত্র আছে। কিন্তু ডেঙ্গু যে সকল কারণে হয় আমরা সকলেই জানি…এই যে ভাঙ্গাচুড়া কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে প্লাস্টিকের মাটি সেটাতে পানি জমে এই ডেঙ্গুর এসিড মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি আমরা আমাদের দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’

উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ এই যে এই মাঠে আমরা যতগুলা মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, বিভিন্ন জেলায় এইযে স্বেচ্ছাসেবক বৃন্দ উপস্থিত আছেন….আমরা যদি প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করেটিসু মাঠে ফেলে দেই এখন হয়ত কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু আমাদের নিজেদের চোখে দেখতে কেমন লাগবে এবং এই ময়লাগুলো যখন আস্তে আস্তে জমা হয়ে অনেকগুলো হবে এই আবর্জনা যখন বড় আকার হয়ে যাবে তখন সেখান থেকে রোগ-জীবাণু তৈরি হবে এবং এই রোগ জীবাণু আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আমার কি হবে আমি একটু দূরে থাকি? আপনার হয়ত কিছু হলো না। কিন্তু আপনার কোন আপনজন বা প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে গেল সে কারণে। সেখান থেকে ডেঙ্গু মশা হোক বা অন্য কোন রোগ সেখান থেকে ছড়িয়ে আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’

যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করি।’

তিনি বলেন, ’আসুন নিজেকে সুস্থ রাখি আমরা, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা হোক, স্কুল হোক, কলেজ হোক, প্রতিষ্ঠান হোক একটা ঘন্টা করে যদি প্রতিষ্ঠা সময় দেই যে যেই বাসাটায় থাকি আমরা, যেই জায়গাটায় কাজ করি আমরা, যেই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ি করি আমরা, যেখানেই থাকি না কেন আমরা একটা ঘন্টা যদি আমরা সেই জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সাথে আমরা সফল হব।’

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই আমরা দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে যত্রতত্র আবর্জনা ময়লা ফেলে দিচ্ছে । আসুন না আমরা সকলে মিলে তাদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করি….. প্রত্যেকটা মানুষ যদি আমরা চেষ্টা করে আমরা পরিবর্তন করতে পারবো। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে আমরা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করি…. আমরা তাদেরকে বলি যে ময়লা করেন না। আমরা কি পারবো কাজটা ?’

এই সময়ে উপস্থিত সকলের সমস্বরে বলে ‘আমরা পারব’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা পারব। আমি যে কথাটা বলেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেখে দিয়েছে দেশকে কি করে পরিবর্তন করতে হয়…পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আছেন আমার সাথে? আছেন, ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাহলে কথা একটাই, এখন কাজ, কাজ, কাজ এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন ….এটাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ, সবার আগে বাংলাদেশ। আসুন নিজেকে সুস্থ রাখি আমরা, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি।’

প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, ‘আপনাদের কাছে আমার একটা আমি একটা সাহায্য চাই। আমার সাথে শুধু আপনারাই এই মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন তাই নয়। অনলাইনে সবগুলো জেলা আজকে এখানে কানেক্টেড আছে। সেই জেলাগুলোতে আপনাদের মত গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, পরিচ্ছনতা কর্মী,ভলেন্টিয়ারসহ ওসব জেলাতে দাঁড়িয়ে আছে সবাই সবার কাছে একটি সাহায্য দরকার আমার। কেন সাহায্য দরকার?’

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি একটা হিসাব দিচ্ছি আপনাদেরকে। আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ, বিএনসিসি সদস্যের সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল মাদ্রাসা ছাড়া সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি আর প্রাথমিক স্কুল-মাদ্রাসাসহ আড়াই কোটি। এইবার আপনারা আমাকে বলেন এতগুলো মানুষ আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশটা কিভাবে আমরা গড়ে তুলব? এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে ।কারণ এই দেশে আমরা বাস করি। আজকে এই যে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি এই যে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে, সারা বাংলাদেশের সবগুলো জেলাতে মিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা আমরা একত্রিত হয়েছি, আমরা চেষ্টা করব পারবো দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে।’

তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন,‘পারবো আমরা? ইনশাল্লাহ আমরা পারব। কারণ এই যেই সংখ্যাটা আমি বললাম, একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। কাজেই পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’

এদিন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন।

সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রেসিন্ট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে সারাদেশের সব জেলা প্রশাসনও যুক্ত ছিল।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক ও দক্ষিন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা