মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নিবন্ধন নয়, প্রকৃত বিনিয়োগের তথ্য চাই: বিডা চেয়ারম্যান

প্রতিবেদকের নাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে শুধু নিবন্ধনের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে বাস্তবভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেছেন, নিবন্ধনের সংখ্যা বিনিয়োগের প্রাথমিক সূচক নয়, বরং প্রকৃত বিনিয়োগ পরিমাপে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডার মাল্টিপারপাস হলে ‘বাংলাদেশ’স ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, বিডায় নিবন্ধনের সংখ্যা দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে কি কমছে সেটার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। কেউ এসে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলে সেটা নিবন্ধনে যোগ হয়। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে সে আসলে বিনিয়োগ করবে কিনা তা ট্র্যাক করার সক্ষমতা এখনো সরকারের নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিনিয়োগের সংখ্যা অনেক বড় দেখালেও বাস্তবে তার সঙ্গে প্রকৃত বিনিয়োগের মিল থাকে না। এ কারণে আমরা শুধু নিবন্ধনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই না।’

এর পরিবর্তে তিনি প্রতিটি বড় প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন, প্রতি দুই থেকে তিন মাসে রিপোর্ট কার্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানান।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে জ্বালানি সংকটকে চিহ্নিত করেন বিডা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি যদি না থাকে, যত বিনিয়োগ সম্মেলনই করি না কেন কারখানা চলবে না, কর্মসংস্থান হবে না।’

তিনি জানান, জ্বালানি সমস্যার কোনো রাতারাতি সমাধান নেই। আজ যদি কাজ শুরু হয়, তবুও মাঠ পর্যায়ে ফল পেতে দেড় থেকে দুই বছর লাগবে। এ কারণে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মনোযোগ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে শিল্প এলাকায় সৌরশক্তি স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জার্মানি এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের বারবার অভিযোগ থাকে যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস থাকলেও বিভিন্ন সংস্থায় দৌড়াতে হয়। এর জবাবে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, সমস্যাটা মূলত ডিজিটাইজেশনের অভাবে। অন্যান্য সংস্থা তাদের সেবার নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখে সেবাটা বিডার পোর্টালে আনে না।

সমাধান হিসেবে তিনি জানান, বিডা এখন এপিআই সংযোগের মাধ্যমে সব সংস্থাকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার কাজ করছে। ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘যতদিন ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া থাকবে, ততদিন দুর্নীতি থাকবে।’ এ লক্ষ্যে এবারের বাজেটে আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সরকারি কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিও উঠে আসে কর্মশালায়। বিডা চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেন, প্রতিটি সংস্থার কর্মকর্তাদের নিজ নিজ স্তরে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব কাজ শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। তিনি বলেন, ‘এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। প্রত্যেক কর্মকর্তার নিজস্ব কর্তৃত্ব আছে সেই কর্তৃত্ব যদি তারা প্রয়োগ না করেন, সেটা দুঃখজনক।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা