অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক নিয়োগের ঘোষণা দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুসান কোয়েল আগামী জুলাই মাসে বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ৫৫ বছর বয়সী সুসান কোয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি ‘চিফ অফ জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দশকের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তিনি সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, জুলাই থেকে আমরা সেনাবাহিনীর প্রথম নারী প্রধানকে পাবো। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস কোয়েলের নিয়োগকে একটি ‘যুগান্তকারী ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুসানের এই অর্জন আজ অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সে কর্মরত নারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভবিষ্যতে যারা সেখানে কাজ করার কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও এটি বড় অনুপ্রেরণা এটি।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্লেস সাংবাদিকদের বলেন, তার এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন। দেশের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে আসীন হওয়া তিনিই প্রথম নারী।
তিনি আরও বলেন, এটি সত্যিই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সুজান নিজেই আমাকে বলেছিলেন, যা দেখা যায় না, তা হওয়ার স্বপ্নও কেউ দেখে না।
এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী এক বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দূরপাল্লার অস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য আধুনিক যুদ্ধ-সরঞ্জামে নিজেদের সজ্জিত করছে বাহিনীটি।
সাইবার যুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কোয়েল বলেন, ‘এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও আস্থা সুরক্ষায় একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের অফিসার র্যাঙ্কে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। সেই ধারাবাহিকতায়ই কোয়েলকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। দেশটির সামরিক বাহিনী পরিকল্পিত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের বহু অভিযোগের মুখে পড়েছে।
৫৫ বছর বয়সী কোয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীর অনেকগুলো দায়িত্বশীল পদ সামলেছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর সবগুলো শাখার মধ্যে তিনিই প্রথম একটির নারী প্রধান হতে যাচ্ছেন।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রায় ২১ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঊধ্র্বতন নেতৃত্বের ভূমিকায় আছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশ করার লক্ষ্য নিয়েছে এডিএফ।