বগুড়া শহরের কানুছগাড়ি এলাকায় একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মো. স্বপন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুরুতর আহত কুকুরটির চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
গতকাল সোমবার রাতে অভিযুক্ত মো. স্বপনকে (৪৮) নগরীর বকশিবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ওই দিন দুপুরে কানুছগাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে বগুড়া মহানগরের কানুছগাড়ি ইনডিপেনডেন্ট হাসপাতাল এলাকায় আসবাব ব্যবসায়ী মো. স্বপন সাদা-কালো রঙের একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আহত কুকুরটিকে নর্দমায় ফেলে রাখা হয়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ইমরান হোসেন স্থানীয় তরুণ এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসারের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করেন। পরে শহরের একটি পেটস কনসালটেন্সি সেন্টারে নেওয়া হলে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান, ভেটেরিনারি সার্জন লুৎফর রহমান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কাজী আশরাফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারসহ জরুরি চিকিৎসা দেন। বর্তমানে প্রাণীটি নিবিড় পরিচর্যায় আছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশকে মাঠে নামানো হয়। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ অভিযুক্ত মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অভিযুক্ত স্বপন ডিবি পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। সে সময় তার কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকু জব্দ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা তুচ্ছ অপরাধ নয়, এটি আইনের চোখে দণ্ডনীয়। মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।