শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে সকালেই রেজাল্ট শিটে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া, ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘গত ৪, ৫ ও ৬ তারিখ- এই তিনদিন দুটি আসনে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমি নিজেই সফর করেছি। ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অনেক কথা আগে শুনেছিলাম, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ হয়, সে দাবি জানিয়েছিলাম। ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া ও এজেন্টদের ওপর হুমকির কথা শুনে আসছিলাম। আজ সকাল থেকে দেখলাম সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘একটা হচ্ছে যে সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসাররা জোর করে আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন, যা একেবারে নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। নিয়ম হলো ভোটগ্রহণ শেষ হবে, গণনা শেষ হবে, ফলাফল তৈরি হবে, তখন রেজাল্ট শিটে সব প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু ভোট চলাকালীন সকালেই বগুড়া-৬ আসনের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (কেন্দ্র নম্বর ১) আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অন্তত ১২টা পর্যন্ত আমি শেরপুর নির্বাচনী এলাকার অন্তত ১৩টা ভোটকেন্দ্রের নাম বলতে পারি, যেখান থেকে জোর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেরপুরে জাল ভোট ঠেকানোর জন্য ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে যখন আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে যাওয়া হলো, সেখানে শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ দুলাল এবং পৌর আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওই উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আমির হামজা রক্তাক্ত হয়েছেন।’
পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং অফিসারদের বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে প্রশাসন অসহায়। কোনো এক জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে তাদের কিছু যেন করার নেই।’
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘যেসব কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং আগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, সেসব কর্মকর্তার প্রতি আইনগত ব্যবস্থা নিন। ব্যাপক অনিয়ম যেখানে হয়েছে সেখানে আপনি ভোট স্থগিত এবং পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে জনগণ এরকম জোরপূর্বক একটা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন না।’