ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় গোপাল ইউনিয়নে জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবলীগকর্মীর গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে ওই ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩২) ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর ডজনখানেক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন ফেনীতে হাজতবাস করে। ওই সময়ে আদালতের নানা ধরনের ফি-এর ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুন কোনো টাকা দেয়নি। দুইজন হাজতবাস থেকে মুক্তির পর স্থানীয় দোকান নিয়ে বিরোধ বাড়ে। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জোবায়ের মামুনকে হাতে থাকা লাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বিষয়টি রাতেই বাড়ির লোকজন একত্রিত হয়ে সুরাহা করে দেয়।
নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সবশেষ তিনি ছেলে জোবায়েরকে দেখেন। শনিবার সকালে নিজ বাড়ির সামনে তার গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পারভেজের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা দাবি করেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ ও অভিযুক্ত মামুন এবং শাহাদাতের নামে থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা জেলপার্টনার ছিল। জামিনে বের হয়ে আসার পর উভয়ের মধ্যে বিরোধ বেড়েছে। ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা এমনটাই দাবি করছে। লাশটি উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।