ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকির ২ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও (সাজা) জারি করা হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত, যা অনাদায়ে তার আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের সেনিটারি ব্যবসায়ী একেএম মোশাররফ হোসেন সিকদার গুলশান থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোক মারফৎ তথ্য পেয়ে ফ্ল্যাটটির বিক্রেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মাদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা হুসাইসন ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে দেখায় এবং বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেন। বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা হুসাইন বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা হুসাইন টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলায় দাবি করা হয়, বিদিশা হুসাইন বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।