যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতা এখন হাতের নাগালে বলে দাবি করেছে ইরান। জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনার ঠিক দুই দিন আগে এই বার্তা দিল তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘পারস্পরিক উদ্বেগ নিরসন ও স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি অভূতপূর্ব চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ খবর আল জাজিরার।
আরাগচি তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তবে সে জন্য কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান কোনো অবস্থাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে তেহরান পিছপা হবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পুনরায় শুরু হওয়া এই আলোচনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এমন এক সময়ে এবারের আলোচনা হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ মোতায়েন করা হয়েছে। তা ছাড়া আরেকটি রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটিতে অবস্থান করছে, যা যে কোনো সময় ইরানের উপকূলের দিকে রওনা হতে পারে।
বর্তমান উত্তেজনার শুরু থেকে তেহরান বলছে, যে কোনো হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত আকারের হামলাকেও ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ছাত্র বিক্ষোভ ইরান সরকারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। টানা কয়েক দিনের মতো তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বিক্ষোভকারী দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। এমনকি সোমবার শিক্ষার্থীরা দেশটির জাতীয় পতাকায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।