জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, আল্লাহ ভালো জানেন। তিনিই বড় সাক্ষী।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ বিল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন। জানায়াত আমির বলেন, এই বিলে যে প্রস্তাবনা করা হয়েছে, স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও তা আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রীও (খালেদা জিয়া) আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে এসেছেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সামান্য পরিবর্তনসহ তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি- এই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম সংজ্ঞায় আনা হয়েছে। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে চলুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনও বিভক্তি চ
াচ্ছি না।মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৪৭-এ একবার এবং ২৩ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যারা দেশ ও জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাকশালের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ৭৩-এর সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল। এরপর ৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তিনি জনগণের মনের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন, এজন্য দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সময় তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন।