সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত সাফল্যের পর বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের সম্মাননা জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আর্থিক পুরস্কার ও ক্রীড়া কার্ড।
গত শুক্রবার মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এটি দেশের দ্বিতীয় শিরোপা, যা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার এবং ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য ও সাফল্যের কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো গুটিকয়েক ফেডারেশন বাদে দেশের অধিকাংশ ফেডারেশনের অবস্থা বর্তমানে বেশ জরাজীর্ণ। একটা সময় এমন অনেক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন, যারা নিজেদের স্ত্রীর গহনা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছেন। এই গুণীদের যথাযথ সম্মান দিলে দেশে ভবিষ্যতে আরও অনেক গুণী মানুষের জন্ম হবে। সরকার এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের পাশে সবসময় থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ফেডারেশনগুলো যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সময় স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে, সেজন্য একটি টেকসই কর্পোরেট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।’
এই অনুষ্ঠানে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম সহ মন্ত্রণালয়ের অনান্য কর্মকর্তারা।