সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সৌদি প্রবাসীকে হত্যা: পরকীয়া প্রেমিকার বোনের স্বীকারোক্তি

প্রতিবেদকের নাম

ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার ৮ টুকরা লাশ উদ্ধারের হত্যা মামলায় পরোকিয়া প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বোন হেলেনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

‎আর হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তার কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামি হেলেনার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

‎‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই এনামুল হক মিঠু হেলেনা জবানবন্দি রেকর্ড করার এবং হালিমাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন। ‎ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান কিশোরী হালিমাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।‎হত্যার শিকার মোকাররম মিয়ার (৩৮) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তালশহরে। গত ১৭ মে মুগদার মান্ডা থেকে কয়েক টুকরা লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় শনাক্ত হয়।

‎‎গত ১৮ মে বিকালে র‍্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার রহস্য তুলে ধরে স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান বলেন, নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাসলিমা আকতার নামে আরেক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরোকিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মোকাররম। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় এসে সরাসরি মুগদার মান্ডায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন। ‎এক কক্ষের সেই বাসায় হেলেনা তার ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকেন। মোকাররমের আসার খবরে সেদিনই তাসলিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওই বাসায় যান।

‎‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরকীয়া সম্পর্ক চলাকালীন দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়। ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও ধারণ করা হয়। মান্ডার সেই বাসায় তাসলিমা-মোকাররমের বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা হয়। তাসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হলে মোকাররম তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ‘আপত্তিকর’ ছবি-ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন। হেলেনার অভিযোগ, মোকাররম তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন। তখন তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং গত ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। কিছুটা চেতনা থাকায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সবাই মিলে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করেন।

‎‎সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “লাশের টুকরা পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছাকাছি আবর্জনার স্তূপে তারা ফেলে দেন। মাথা ফেলে আসেন দূরে। ঘটনার পরদিন তারা বাইরে ঘোরাফেরা করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে তারা বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেন। দুইদিন পর মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর গত ১৭ মে রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

‎এ ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ ও র্যাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা