জুলাই আন্দোলনের মিরপুর-১০ এ কবির হত্যাচেষ্টার মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাবিনা আক্তার তুহিন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কি ডানা আছে। এক দিনে এতো জায়গায় গিয়ে এতো কিছু করছি। আজকে আমার বাচ্চার জন্মদিন। এতো মামলা থাকলে কি করে বের হবো। মরে গেলে জামিন পাব।’
তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম গত মঙ্গলবার (১৯ মে) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিনই তুহিনের পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহম্মেদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মিরপুর-১০ এ কবির ও তার শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। ওই সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হত্যার উদ্দেশে গুলিবর্ষণ করে। এতে আহত হন কবির। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি কবির মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাবিনা আক্তার তুহিন সংরক্ষিত নারী আসন-৩৫ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ২০১৪ সালের মার্চে শপথ নেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন তুহিন। পরে ঢাকা-১৪ আসনে যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন খান নিখিলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। তবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিখিলই সংসদে যান।
গত বছর ২৩ জুন রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জের নিজ বাড়ি থকে থেকে সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।