হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনের দুটি তেলবাহী জাহাজ বেরিয়ে যাওয়ার খবর নতুন করে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বিশ্ববাজারে।
বুধবার জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর উপাত্তে দেখা যায়, ইরাকের অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি বিশাল জাহাজ প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।
আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, ‘যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।’ পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ‘তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে তিনি আপাতত সরে এসেছেন, কারণ ইরান নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে।’ তবে কোনো সমঝোতা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আবার হামলা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত অর্থ ছাড় এবং সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শত শত তেলবাহী জাহাজ বের হতে পারেনি এবং বিভিন্ন জ্বালানি ও নৌপরিবহন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। হোয়াইট হাউসের ইতিবাচক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে বিভক্তি থাকায় আলোচনা জটিল হয়ে উঠছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেছেন, ১যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত করেছে কারণ তারা বুঝতে পেরেছে ইরানের পাল্টা জবাব হবে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক।’
গত কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইরানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে।