শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

হাসপাতালে দালালকে ধরে ময়লা পরিষ্কার করাল ছাত্রদল

প্রতিবেদকের নাম

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে এক দালালকে ধরে তাকে দিয়ে ময়লার ড্রেন পরিষ্কার করে নিয়েছে ছাত্রদল। ময়লা ড্রেন পরিষ্কারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেছ ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অভিনব শাস্তি হিসেবে এই ময়লা পরিষ্কার করে নেওয়া হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, আকতার হোসেন নামের দালাল চক্রের এক সদস্যকে ধরে তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করে নিচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মামুন ইসলাম। প্রথমে ড্রেন পরিষ্কার, পরে সেই ময়লা ড্রামে করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে। এভাবেই আরও একটা ড্রেন পরিষ্কার করে নেওয়া হয় সেই দালালকে দিয়ে। রোগী নিয়ে হয়রানি কিংবা এই কাজ আর করবে না এমন ওয়াদা করানো হয় সেই দালালকে।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মামুন ইসলাম জানান, ‘আমরা যখন জানতে পারি, বকসিস না দেওয়ায় রোগী বহনে ট্রলি দেয়নি, সময় মতো রোগী চিকিৎসকের কাছে না পৌঁছানোর কারণে সেই রোগীর মৃত্যু হয়। এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছাত্রদলকর্মীরা সেখানে যাই এবং রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বিভাগে হাতেনাতে সেই দালালকে ধরি। পরে সেই দালালকে দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিষ্কার করিয়ে নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই অভিনব শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দালাল সিন্ডিকেট কমবে, পাশাপাশি ময়লা ড্রেন পরিষ্কার হবে।’

ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, ‘রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়, ট্রলি নিয়ে ব্যবসা, এই সকল হয়রানির অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পক্ষে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলাম, চোর ছিনতাইকারী কিংবা দালাল চক্রের কেউ যদি ধরা পরে, তাহলে তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করানো হবে। সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিষ্কার করা হবে তাকে দিয়ে।’

ভুক্তভোগীর রোগীর আত্মীয় রিপন মিয়া বলেন, ‘ট্রলি বহনকারীদের সঙ্গে হাসপাতালের একটা শ্রেণির যোগসাজসে বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সেই সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সবাই নেয়। এদের কোনো একজনকে কিছু বললে পুরো সিন্ডিকেট আপনাকে হেনস্তা করবে, আপনার রোগীর প্রতি বিরূপ আচরণ করবে। চিকিৎসায় পদে পদে বাধা তৈরি করবে। যার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে এই অন্যায় মেনে নেয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙা দরকার।’

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ‘মেডিকেলের জরুরি বিভাগে রাতের বেলায় ট্রলি নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্ত জনবল সংকটের কারনে এটা বন্ধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এত বড় হাসপাতালে একাই লড়াই করে, উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়াটা কঠিন। হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা দরকার। জনবল দরকার। তাহলে রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা