গাড়ী চাপায় রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সেই কিশোরের জামিনের অধিকতরশুনানির দিন আগামী ৪ অক্টোবর ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার ঢাকার ৮ নম্বরবনারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির অংশিক শুনানির পর এই তারিখ ঠিক করন।
এদিকে এদিন ওই কিশোরের জামিনে অনাপত্তি দিতে নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী মোক্তাদীর, বাবা ও মামা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। এদিন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান ওই ট্রাইব্যুনালে ওই কিশোরের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন।
আবেদনে মামলার অভিযোগ নিয়ে বাদীর সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। ওই কিশোরের এই মামলায় এজাহারে নাম নেই। বাদীর সঙ্গে আপসনামা আদালতে জমা দিচ্ছি না। তবে আদালত (বিচারক) আপনাকে দেখানোর জন্য কাগজপত্র দিয়েছি। আমরা ওই কিশোরের পক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দিয়েছি। ওই কিশোর শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। কিশোর বিবেচনায় তার জামিনের প্রার্থনা করছি।
এ সময় বিচারক বলেন, আপনারা (আইনজীবী) কী দেখেছেন, এই মামলায় কী পরিমাণ মিডিয়া কাভারেজ হচ্ছে। মামলাটির ধারা অনুযায়ী জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য কোনোটিই নয়। তখন আইনজীবীরা বলেন, স্যার, কিশোর বিবেচনায় জামিন দিতে পারেন। আমরা তো আপস-মীমাংসা করেছি। তখন বিচারক বলেন, আমি আইনে কথা বলব, নাকি আমার কথা বলব। আপনারা জামিন শুনানি করেন, নথি দেখে আদেশ দেব, বা পরে আদেশ দিতে পারি।
এই বিষয়ে আজকে আদেশ নাও হতে পারে। তখন এই আইনজীবী ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে উপস্থিত আছে বলে জানান। জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ সময় বিচারক জিজ্ঞেস করেন, কে কে আছে? তখন নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী মোক্তাদীর, বাবা ও মামা কাঠগড়ার সামনে এসে দাঁড়ান।
বিচারক বলেন, ঘটনাটি কিন্তু অনেক গুরুতর। একটি সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সমাজ একটি ন্যায়বিচার দেখতে চায়। যদিও এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নেই। তবুও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে। শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকলে এতক্ষণে হয়ে যেত। আপনারা (আইনজীবীরা) এতক্ষণ বসে থাকতে হতো না। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে মিডিয়া কাভারেজ হয়েছে। আমাদের সব দিক দিয়ে বিবেচনা করতে হয়।তখন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান বলেন, তাহলে স্যার (বিচারক), আপনি আগামী রোববার অধিকতর জামিন শুনানির জন্য দিন রাখেন। ওইদিন কাস্টডিও বেশি হবে। থাকুক আরও কিছু দিন কারাগারে। এরপর বিচারক আগামী ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির তারিখ ঠিক করেন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন গত ২৪ সেপ্টেম্বর আজানকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে পুলিশ জানায়।
ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোর বেরিয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শারীফের গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ জানায়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।