ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস কাটা ও বিক্রিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির পর রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলিম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জারি করা এই নির্দেশনার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশিক্ষতির মুখে পড়েছেন মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
দেশটির সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি গবাদিপশু জবাইয়ের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
নিষেধাজ্ঞার পর কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংস এবং এ-সংক্রান্ত খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার হোটেলগুলোতেও গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন বিজেপির কয়েকজন বিধায়ক। উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় গবাদিপশুবাহী গাড়ি থামিয়ে পশুর বয়সসংক্রান্ত নথি দেখতে চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবুখালী এলাকায় একটি গবাদিপশুবাহী গাড়ি আটক করে গরুর জন্মসনদ দেখতে চান তিনি। তার দাবি ছিল, সরকার ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাই পশুর বয়সের প্রমাণ দেখাতে হবে।
এ ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিজেপিশাসিত কোনো রাজ্যের অন্তত একটি গরুর জন্মসনদ আমাদের দেখানো হোক, তাহলে সেটি আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারব।’
নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে ক্ষোভ শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক হিন্দু খামারি ও ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার সময় গরু বিক্রি করে তারা সারা বছরের বড় একটি আয় করেন। হঠাৎ জারি হওয়া এই বিধিনিষেধে তাদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশনার আড়ালে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা মেনেই তারা আইন কার্যকর করতে সহায়তা করছেন।