শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র নিবন্ধন নয়, প্রকৃত বিনিয়োগের তথ্য চাই: বিডা চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ সুইস ব্যাংকে টাকা জমানোর রেকর্ড বাংলাদেশিদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘ইউরোপ অ্যাপ্লিকেশন ডে’ পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাইলেন বিশেষজ্ঞরা জাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় কারাগারে সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। গত ৯ মে কেন্দ্রীয় বিএনপিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটের প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ভাষ্য, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখাগুলোর কমিটি পুনর্গঠনেরও গুঞ্জন উঠেছে। এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।

শাখা ছাত্রদলের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্প্রতি কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে তিনজন পদপ্রত্যাশীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংসদের একজন নেতা বৈঠক করেছেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কমিটিতে আলোচনায় রয়েছেন ৪৬ব্যাচের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের রাজু হাসান রাজন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আব্দুল্লাহ অন্তর, দর্শন বিভাগের মাহবুবুর রহমান মুরাদ ও সাদিক হোসেন, রসায়ন বিভাগের জাকিরুল ইসলাম এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাব্বির হোসনে। ৪৭ব্যাচ থেকে আলোচনায় রয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রূপক সালমান এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল গাফফার। ৪৮ব্যাচের বাংলা বিভাগের শেখ সাদী, ৪৯ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মেহেদী হাসান ইমন, ইংরেজি বিভাগের হামিদুল্লাহ সালমান এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাজ্জাদুল ইসলামও রয়েছেন এই আলোচনায়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৬, ৪৭ ও ৪৮তম ব্যাচের পদপ্রত্যাশীদের কারোরই বর্তমানে ছাত্রত্ব নেই। তারা আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অছাত্রদের হলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হলে আছেন ছাত্রদলের পদধারী অনেকে। এটি আবারও গণরুম কালচার ফিরিয়ে আনার উপসর্গ।’

এদিকে, রাজু হাসান রাজন ও হামিদুল্লাহ সালমান গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। এ ছাড়া রূপক সালমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট বলে জানা গেছে। শেখ সাদী সর্বশেষ জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি, সাজ্জাদুল ইসলাম এজিএস (পুরুষ), মেহেদি হাসান ইমন ও হামিদুল্লাহ সালমান কার্যকরী সদস্য প্রার্থী ছিলেন। তবে, নির্বাচনের পর অনেরকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান এজিএস প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম। অন্যদিকে, বিভিন্ন কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে এখনও সক্রিয় আছেন মেহেদি হাসান ইমন ও হামিদুল্লাহ সালমান। আলোচিতদের মধ্যে শেখ সাদী ও জাকিরুল ইসলাম ছাড়া বাকিরা গণ-অভ্যুত্থানের আগে থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থাকা এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার কারণে রাজু হাসান রাজন, আব্দুল্লাহ অন্তর, মাহবুবুর রহমান মুরাদ, মেহেদি হাসান ইমন ও হামিদুল্লাহ সালমান পরিচিতি অর্জন করেছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে তাদের আবাসিক হলে থাকতে দেয়নি তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্তর বর্তমান কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক, মুরাদ ১ নাম্বার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া আব্দুল গাফফার জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের সম্মুখসারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার বিষয়টি আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হন।

অন্যদিকে, নতুন কমিটি গঠনের প্রশ্নে জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। একটি পক্ষ দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের পদায়নের পক্ষে, অন্য পক্ষ তরুণ ও কার্যকর নেতৃত্বের দাবি তুলছেন। কারও কারও বক্তব্য, ছাত্রত্ব নেই এমন কাউকে নেতৃত্বে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। তবে সকলেই সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনে জোর দিয়েছেন।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য আবিদুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পূর্ব থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়, শিক্ষার্থীবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়েই কমিটি গঠন করা উচিত। যাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও মূল্যায়নের প্রয়োজন ছিল, আশা করি তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে জুনিয়রদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা প্রয়োজন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রম যেহেতু ব্যাপক ও বহুমাত্রিক, তাই যেসব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সংগঠনের জন্য সার্বক্ষণিক সময় দিতে সক্ষম, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা যৌক্তিক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, ‘সাবেক শিক্ষার্থীদের কমিটিতে আনলে তাদের সাথে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়হীনতার সম্ভাবনা থাকে। গত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব অনেকটা শিক্ষার্থী ও কর্মীবন্ধব হলেও অনেক অছাত্র নেতাদের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা, অধুনিক বিষয়াবলির জানাশুনা কম থাকাসহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।’

নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ১৭৭ সদস্যের ৩০ দিন মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩৯তম ব্যাচের জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরকে আহ্বায়ক এবং ৪০তম ব্যাচের ওয়াসিম আহমেদ অনিককে সদস্যসচিব করা হয়। ওই কমিটি পরে ১৭টি হল কমিটি ও বর্ধিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা