শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের নতুন ভাস্কর্য, কমিটি গঠন এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন গ্রেপ্তার কর্মসংস্থানে সমতার অঙ্গীকারে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হলো স্বপ্ন আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও এপস্টেইনের মডেল সরবরাহকারী সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু! চুরির মামলায় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার পিএস রিমান্ডে বাংলাদেশের সংকটকালে চীন বরাবরই পাশে রয়েছে: রাষ্ট্রদূত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক রাতে যত রেকর্ড

প্রতিবেদকের নাম

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের সঙ্গে একই রাতে ইতিহাস গড়েছে স্পেন। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে জয় এনে দেয়। ফাইনালে যে দলটিকে ফেভারিট ভাবা হচ্ছিল, তারাই শেষ পর্যন্ত চোখের জলকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়ল।

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের খেলা শেষ হয়েছে চরম নাটকীয়তায়। কারো হৃদয় ভেঙেছে। কারো হৃদয় জোড়া লেগেছে। বেশ কিছু রেকর্ড ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্ত হয়েছে। স্পেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এর মাধ্যমে একাধিকবার বিশ্বকাপ জয়ী সপ্তম দল হলো স্পেন।

ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হলো স্পেন। এর আগে ২০০৮ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। এছাড়া ১৯৭২ সালে পশ্চিম জামার্নি ইউরো জয়ের পর ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জিতে নেয়।

ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের তৃতীয় গোলটি করেন এবং এই আসরে এটিই ছিল তার প্রথম গোল। এর আগে ২০২২ সালে কোস্টা রিকার বিপক্ষে তিনি দুটি গোল করেছিলেন।

তোরেসের ১০৬তম মিনিটের গোলটি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বশেষ সময়ে করা জয়সূচক গোল। বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড মারিও গোতজের সঙ্গে একমাত্র বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়সূচক গোল করার কীর্তি গড়লেন।

স্পেন এই বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচ ক্লিন শিট রেখেছে। যা এক আসরে সর্বাধিক ক্লিন শিটের রেকর্ডকে আরও বাড়িয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারের বিপক্ষে। যা কোনো বিশ্বকাপজয়ী দলের সর্বনিম্ন। একমাত্র সুইজারল্যান্ডই ২০০৬ বিশ্বকাপে কোনো গোল না খেয়েও শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর বিদায় নিয়েছিল।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন এখন টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত। যা পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে ইতালির (২০১৮-২১) সর্বোচ্চ অপরাজিত ধারার রেকর্ড ভেঙেছে। স্পেন তাদের সাতটি বড় টুর্নামেন্ট ফাইনালের মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কেবল জার্মানি (৭) স্পেনের চেয়ে বেশি বড় শিরোপা জিতেছে।

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। গতকাল তার বয়স ছিল ৬৫ বছর ২৯ দিন। বড় টুর্নামেন্টে লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার ১৫টি ম্যাচেই অপরাজিত। ফিফা বিশ্বকাপ ও উয়েফা ইউরো মিলিয়ে কোনো কোচের এটি দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার ঘটনা।

বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে স্পেন তাদের শেষ ১৫ ম্যাচের ১৪টিতে জিতেছে। একমাত্র দল যাদের তারা হারাতে পারেনি, তারা হলো কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দে স্পেনকে চমকে দিয়ে ড্র করেছিল। ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসের যৌথভাবে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ইয়ামাল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারও, তার আগে আছেন ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের পেলের (১৭ বছর ২৪৯ দিন) এবং ১৯৮২ সালে ইতালির জিউসেপ্পে বার্গোমির (১৮ বছর ২০১ দিন)।

ইয়ামালই প্রথম ১৯ বছর ৬ দিনের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একই সঙ্গে ইউরো ও ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছেন। ফাবিয়ান রুইস একই মৌসুমে বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী মাত্র দশম খেলোয়াড় হলেন। তিনি দুটি ফাইনালেই খেলেছেন। পাও কুবার্সি ১২১টি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন, যা গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের ডুঙ্গা করেছিলেন ১৩০টি) ।

১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের রোমারিওর পর ৩২ বছর পরে প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি। আর্জেন্টিনা তাদের শেষ চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্যে তিনটিতেই রানার্স আপ হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দলীয় টানা ১৩ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গেল। ২০২২ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে (২-১) হারের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ পরাজয়।

গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল, যারা গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেনি। তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তিনবার—১৯৯০, ২০১৪ এবং ২০২৬ সালে। লিওনেল মেসি প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলেছেন। তিনি ব্রাজিলের কাফুর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কত্ব করা প্রথম খেলোয়াড়ও মেসি।

মেসি বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে নামা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হয়েছেন। বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের কোনো ম্যাচে মেসির ৫৪টি বল স্পর্শ ছিল পঞ্চম সর্বনিম্ন। এমিলিয়ানো মার্তিনেস স্পেনের বিপক্ষে ১১টি সেভ করেছেন, যা গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ। এনজো ফার্নান্দেজ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ খেলোয়াড় এবং ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জনি হেইটিঙ্গার পর প্রথম। কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ফিফা বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা