বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

‘এটা আমার পালাকার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন’

প্রতিবেদকের নাম

অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যান্ডদল ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ তুলে দেন। এই সম্মাননায় ভূষিত হন বরেণ্য পালাশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

পদকপ্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসলাম উদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘অনুভূতির ব্যাপারে কী আর বলব! শুধু এটুকু বলি, এটা আমার পালাকার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন।”

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পালাগানের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী জানান, তার শিল্পীজীবনের সূচনাই হয়েছিল পালা দিয়ে। সেই পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক প্রাপ্তিকে তিনি দেখছেন এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে।

তার ভাষায়, ‘আমি বহুকাল ধরে পালা গান গাইতেছি। এই জীবনের শুরুটাই পালা গান দিয়ে। কিন্তু এই পালাকার জীবনে আজকের দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন তো আর আসেনি।’

শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এই সম্মানকে তিনি দেখছেন পালাগানের সামগ্রিক মর্যাদা বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে। ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এই পদক (একুশে পদক) প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে পালা গান দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে গেছে।’

গ্রামবাংলার মাটির গন্ধমাখা পালাগানকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া ইসলাম উদ্দিনের এই স্বীকৃতিকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে লোকগান নিয়ে কাজ করেন, এমন অনেকেই ইসলাম উদ্দিনের এই স্বীকৃতিকে কেবল একজন শিল্পীর প্রাপ্তি নয়, দেখছেন লোকসংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারার প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান হিসেবে।

দীর্ঘ সাধনা, ওস্তাদের সান্নিধ্যে শিক্ষাগ্রহণ, হাওর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সব পথ পেরিয়ে আজকের এই অর্জন তাই ইসলাম উদ্দিন পালাকারের শিল্পজীবনের এক উজ্জ্বল মুকুট।

বলা দরকার, ইসলাম উদ্দিন পালাকার ১৯৬৯ সালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মক্তব পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও শৈশবেই যাত্রাপালা ও পালাগানের প্রতি আকৃষ্ট হন। বড় দুই ভাই ‘ঝুমুর যাত্রা’ দলে অভিনয় করতেন- তাদের দেখেই অনুপ্রাণিত হন।

১৯৮১ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘কাশেম মালা’ যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার শিল্পীজীবন শুরু। কৈশোরে ওস্তাদ কুদ্দুস বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পালাগান রপ্ত করেন। ‘গুলে হরমুজ’ পালা দিয়ে মূল গায়েন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরে নিজস্ব দল গড়ে স্বতন্ত্রভাবে পথচলা শুরু করেন।

২০২৩ সালে কোক স্টুডিও বাংলার ‘দেওরা’ গানে কণ্ঠ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা