বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’

প্রতিবেদকের নাম

অনবরত কান্না করে যাচ্ছিল একটি শিশু শিক্ষার্থী। তার মুখেই বার বার বেত ঢুকিয়ে হাসছিল শিক্ষক। আবার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষক লিখলেন ‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপর এক ভিডিওতে ক্ষমা চেয়ছেন ওই শিক্ষক।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন।

তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলেও টিকটক ও রিলস আসক্তির জন্য প্রায় দুই মাস আগে তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

শিক্ষকের পোস্ট করা শিশুটির কান্নার ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। উল্টো শিক্ষকের হাসি শোনা যায় ভিডিওতে।

এরপর সমালোচনার মুখে ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি নষ্ট করে দেন। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ফেইসবুকে লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষক ইমরান।

সেখানে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান টিকটক ও রিলসে আসক্ত ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নজরে আসে। অভিভাবকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি চাকরিতে থাকাকালীন ধারণ করে রেখে পরে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেন তিনি।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভনমূলক আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদানের অভিযোগ উঠে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনতেন না। এজন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে খবর নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষক রায়পুরে নেই। প্রায় একমাস ধরে মাদ্রাসাটিও বন্ধ আছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা