বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। ৭২ ম্যাচের উত্তাপ, রোমাঞ্চ আর চমকের পর এবার শুরু হয়েছে নকআউটের লড়াই। এর মধ্যেই গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ফুটবল তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম অপ্টা অ্যানালিস্ট। সেই একাদশে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকারা।
অপ্টার নির্বাচিত একাদশে গোলপোস্টের দায়িত্ব পেয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনিয়া। বয়স ৪০ হলেও গ্রুপ পর্বে দলের ঐতিহাসিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর উরুগুয়ে ও সৌদি আরব ম্যাচেও দলের ভরসা হয়ে ছিলেন এই গোলকিপার।
রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন ঘানার মারভিন সেনায়া, কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস, স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি এবং জাপানের কেইতো নাকামুরা। সেনায়া গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি ট্যাকল করে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে কুবারসি মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাসিং, পজিশনিং ও বল পুনরুদ্ধারে নিজের পরিণত ফুটবলের ছাপ রেখেছেন। জাপানের নাকামুরা আক্রমণাত্মক ভূমিকা ও গতিময় ফুটবল দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন।
মিডফিল্ডে জায়গা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টন ম্যাকেনি ও ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতে। ম্যাকেনি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে বাড়তি গতি ও শক্তি যোগ করেছেন। আর পেদ্রো ভিতে বল দখল, পাসিং, সুযোগ তৈরি ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার কাজে ছিলেন অসাধারণ।
আক্রমণভাগে তারকার ছড়াছড়ি। ডান প্রান্তে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ছয় গোল করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরমার তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি।
বাঁ প্রান্তে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে সেলেসাওদের আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের জার্সিতে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স হেক্সা মিশনে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
স্ট্রাইকার পজিশনে আছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। হলান্ড মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই করেছেন চার গোল। অন্যদিকে এমবাপ্পে গোল ও অ্যাসিস্টে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের বড় ম্যাচের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
সব মিলিয়ে অপ্টার গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশে অভিজ্ঞতা, তারকা শক্তি, তরুণ প্রতিভা ও চমক—সব কিছুরই মিশ্রণ দেখা গেছে। মেসি-এমবাপ্পের মতো বিশ্বসেরা তারকার পাশে জায়গা পাওয়া ভোজিনিয়া, সেনায়া, দিনেই বোর্হেস কিংবা নাকামুরাদের পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, এবারের বিশ্বকাপ শুধু বড় নামের নয়—নতুন গল্পেরও মঞ্চ।