যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ও আধুনিকতম বিমানবাহী নৌযান ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শনিবার ভার্জিনিয়ার বন্দরে ফেরত এসেছে। প্রায় এক বছর ধরে সমুদ্রে থাকা এই নৌযানটি চলাকালীন সময়ে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার অভিযান, ইরানের যুদ্ধ ও জাহাজের অগ্নিকাণ্ডের মতো সমস্যা মোকাবিলা করেছে।
শনিবার বার্তাসংস্থা সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতিহাসে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো ক্যারিয়ার নৌযানের দীর্ঘতম মোতায়ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই সময়ে জেরাল্ড আর ফোর্ড প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন সামরিক উদ্দেশ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে।
এদিন নরফোকে জাহাজটির ক্রুদের পরিবারের সদস্যরা বন্দরে এসে নৌযানটি স্বাগত জানিয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম এই বিমানবাহী রণতরীকে স্বাগত জানাতে ভার্জিনিয়ার নরফোক-এ উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এ সময় হেগসেথ বলেন,‘ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যা করেছে তা অসাধারণ এবং চমৎকার।’
ডিপ্লয়মেন্ট চলাকালীন মার্চে জাহাজের লন্ড্রি অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল। আনুমানিক ৬০০ ক্রু তাদের বিছানা ব্যবহার করতে পারেননি, তবে কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি।
ফোর্ড জাহাজ ইরান ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভেনেজুয়েলা অভিযানে জাহাজ থেকে বিমান ছোড়া হয়েছিল যা মাদুরর গ্রেপ্তার অভিযানকে সহায়তা করেছে। ইরানে যুদ্ধ চলাকালীন জাহাজ থেকে ফাইটার জেট ছোড়া হয়।
ব্রেন্ট স্যাডলার, নৌবাহিনীর ২৬ বছরের প্রাক্তন কর্মকর্তা বলেন, ‘ফোর্ডের বৈদ্যুতিন ক্যাটাপল্ট সিস্টেম ছোট ড্রোন থেকে বড় বিমান পর্যন্ত যেকোনো বিমান উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম, যা কমান্ডারদের কাছে শক্তিশালী বিকল্প দেয়। অন্য ১০টি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী জাহাজে এমন ক্ষমতা নেই।’
ফোর্ড গত জুনে ভার্জিনিয়ার বন্দর থেকে সমুদ্রপথে অ্যান্টলান্টিক অতিক্রম করে প্রথমে ভূমধ্যসাগর এবং নরওয়ে যায়। পরে ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং সম্ভাব্য মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অংশগ্রহণের জন্য জাহাজটি ক্যারিবিয়ানে যায়। শেষপর্যন্ত চলতি মাসে জাহাজটি আবার অ্যান্টলান্টিকের পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত আসে।