ঢাকার উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে সাত মাসের মেয়েকে আছড়ে হত্যা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন গ্রেপ্তার দেখানোর এই আদেশ দিয়েছেন।
শুনানিকালে আসামি কবির ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ফয়সাল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
৭ মাস বয়সি রাফা মনি কবিতাকে গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় আছড়ে হত্যার অভিযোগে আটক হন তার বাবা কবির ইসলাম। ঘটনার পর সাধারণ জনতা কবির ইসলামকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দালতে হাজির করে তুরাগ থানা পুলিশ। সেদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৬ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাফা মনি। শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় গত শুক্রবার তুরাগ থানায় কবিরকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির নানি সারমীন আক্তার। এরপরকবিরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , দুই বছর আগে কবিরের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে রাফা মনি জন্মগ্রহণ করে। কবির পেশায় রিকশাচালক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। কবির মাদক সেবন করে প্রায়ই লিমাকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন। লিমার বাবা অসুস্থ হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বাবাকে দেখতে বালুরমাঠ হারুন মোল্লার বস্তির বাসায় যান তিনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কবিরের সঙ্গে লিমার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। কবির ক্ষিপ্ত হয়ে রাফা মনিকে তার নানির কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথার ওপরে উঠিয়ে রাস্তায় আছাড় মারেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে রাফা মনির মৃত্যু হয়।