ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাব ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএলের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দুবাই ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কয়েকটি দলের যাতায়াত সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। ফলে দল ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগ প্রশমিত করতে আইসিসিকে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এখন সেই যাতায়াত সংকটের প্রভাব আইপিএলেও পড়তে পারে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বুধবার আইপিএল ২০২৬–এর প্রথম ২০ ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে। তামিলনাড়ু, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর পুরো সূচি প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য নির্বাচনের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা সংঘাতও বোর্ড কর্মকর্তাদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক যাতায়াতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং দোহা ও দুবাইয়ের মতো বড় বিমানবন্দরের কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত হয়ে গেছে।
ফলে বিশ ওভারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরও দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কয়েকজন ক্রিকেটার এখনও দেশে ফিরতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে ওই দুই দেশের আইপিএলে অংশ নিতে যাওয়া ক্রিকেটাররা সময়মতো নিজ নিজ দলে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একজন দলীয় কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। তাদের সময়মতো ভারতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাছাড়া পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিমান ভাড়াও অনেক বেড়ে গেছে।’
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন হোটেলেও রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার গৃহস্থালি গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কাসি বিশ্বনাথন অবশ্য জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকিল হোসেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস সময়মতোই দলে যোগ দেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি তাদের আসতে কোনো দেরি হবে না।’