পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ মার্চ) পৌর শহরের উকিলপট্টি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সুমন ফকির (৩৭) উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ঘুটা বাছা গ্রামের হাজী ইব্রাহিম ফকিরের ছেলে, তার সহযোগী সজিব (৩২) ও ইমন (৩০)।
পুলিশ জানায়, সুমন ফকির দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের নিয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়নে মব সৃষ্টি করে স্থানীয়দের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করতেন। অভিযোগ রয়েছে, মজিদপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার মাছের ঘের থেকে আড়াই লাখ টাকা মূল্যের মাছ ধরার উপকরণ জোরপূর্বক নিয়ে যান তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয় এবং নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চাঁন মিয়া বাদী হয়ে সুমনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফোরকান মিয়া বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।’
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘সুমনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মব সৃষ্টি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। বিষয়টি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বাদল মৃধা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুমনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
এর আগে একই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় গরু চুরি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলার অভিযোগে দলীয় আরও দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।