বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সামনে এবার জাপান। নামের ভার, ইতিহাস আর বিশ্বকাপের সাফল্যে ব্রাজিল অনেক এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক স্মৃতি সেলেসাওদের জন্য মোটেও স্বস্তির নয়। কারণ দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে জাপানের কাছে হেরেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর টোকিওতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও জাপান। ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে। ২৬ মিনিটে পাওলো হেনরিকে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৩২ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মনে হচ্ছিল, ব্রাজিল হয়তো আরেকটি সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ঘরের মাঠে জাপান দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ৫২ মিনিটে তাকুমি মিনামিনো গোল করে ব্যবধান কমান। ৬২ মিনিটে কেইতো নাকামুরা সমতা ফেরান। এরপর ৭১ মিনিটে আয়াসে উয়েদা গোল করে জাপানকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আর ঘোচাতে পারেনি ব্রাজিল।
এই জয় জাপানের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই ছিল জাপানের প্রথম জয়। এর আগে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সেলেসাওদের দাপট ছিল একচেটিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও জাপান এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ১১ ম্যাচ, ড্র হয়েছে ২টি, আর জাপানের জয় মাত্র ১টি।
তবে সাম্প্রতিক সেই এক জয়ই এখন জাপানের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জেতা প্রমাণ করে, জাপান এখন শুধু লড়াই করার দল নয়, বড় দলকে হারানোর সামর্থ্যও রাখে। বিশেষ করে দ্রুত পাসিং, উইং প্লে, হাই প্রেসিং এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা জাপানকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচ শুধু নকআউটের পরীক্ষা নয়, সাম্প্রতিক হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও। কার্লো আনচেলত্তির দল বিশ্বকাপে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে। গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও পরের ম্যাচগুলোতে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স উন্নত হয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল ফর্ম, নেইমারের ফেরা এবং আক্রমণভাগের গতি সেলেসাওদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
তবুও জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সর্বশেষ সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলকে সতর্ক করে দিয়েছে—ম্যাচে এগিয়ে থাকলেই জাপানের বিপক্ষে নিরাপদ থাকা যায় না। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে জাপানের গতি ও পাল্টা আক্রমণ ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশ্য ইতিহাস এখনো ব্রাজিলের পক্ষে। ২০০৬ বিশ্বকাপে দুই দল একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে জাপান আগে গোল করলেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়। কিন্তু ২০২৫ সালের টোকিওর ফল প্রমাণ করেছে, বর্তমান জাপান আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও সাহসী।
সব মিলিয়ে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচটি শুধু পরিসংখ্যানের লড়াই নয়, আত্মবিশ্বাস বনাম ইতিহাসের লড়াই। একদিকে হেক্সা মিশনে এগিয়ে যেতে মরিয়া ব্রাজিল, অন্যদিকে সর্বশেষ জয়ের স্মৃতি নিয়ে আরেকটি অঘটনের স্বপ্ন দেখছে জাপান।