২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মাঠে নামছে ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ জাপান। বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি/হিউস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।
নকআউট পর্ব মানেই ভুলের সুযোগ কম। আর জাপানের মতো গতিময়, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে নিজেদের গোলপোস্ট নিরাপদ রাখা। সেই জায়গায় কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের অন্যতম বড় ভরসা গোলরক্ষক আলিসন বেকার।
জাপান এখন আর শুধু পরিশ্রমী দল নয়; তারা দ্রুত পাসিং, সংগঠিত প্রেসিং, উইং দিয়ে গতি তোলা এবং পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সামর্থ্য রাখে। মাঝমাঠ থেকে বল পেলেই তারা দ্রুত আক্রমণে ওঠে। বক্সের সামনে কাটব্যাক, ডিফেন্সের পেছনে থ্রু পাস কিংবা দ্রুত ক্রস—সব মিলিয়ে সামুরাই ব্লুদের আক্রমণ সামলাতে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।
এই পরীক্ষায় আলিসনের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পারে। লিভারপুল ও ব্রাজিলের জার্সিতে বড় ম্যাচ খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গোললাইন সেভ, ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি সামলানো, বক্সের ভেতরে ক্রস ধরতে বের হওয়া এবং ডিফেন্সের পেছনে পড়া বল ক্লিয়ার করার ক্ষেত্রে আলিসন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক।
জাপানের বিপক্ষে আলিসনের আরেকটি বড় ভূমিকা হতে পারে বল পায়ে খেলা গড়ে তোলা। জাপান যদি হাই প্রেসিং করে, তাহলে ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে আলিসনের ঠান্ডা মাথায় সঠিক পাস দেওয়া, চাপ কাটিয়ে বল বের করা এবং প্রয়োজনে লম্বা পাসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিদের আক্রমণে পাঠানো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
ব্রাজিলের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে টোকিওতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও জাপানের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল। সেই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে, জাপান শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করতে পারে এবং সুযোগ পেলে বড় দলকেও হারিয়ে দিতে পারে।
আজকের ম্যাচ তাই ব্রাজিলের জন্য শুধু শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই নয়, সাম্প্রতিক হারের স্মৃতি ভুলে নতুন বার্তা দেওয়ার সুযোগও। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস, নেইমার, মার্টিনেলি কিংবা রায়ানরা গোলের পথ খুঁজবেন। তবে জাপানের গতি ও পাল্টা আক্রমণ থামাতে গোলপোস্টের সামনে আলিসনের ভূমিকা হতে পারে নির্ণায়ক।
নকআউট ম্যাচে ৯০ মিনিটে ফল না এলে অতিরিক্ত সময়, এমনকি টাইব্রেকারেও যেতে পারে লড়াই। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের মানসিক দৃঢ়তা বড় সম্পদ। পেনাল্টি শুটআউটে প্রতিপক্ষের শরীরী ভাষা পড়া, সঠিক দিকে ঝাঁপ দেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে দলকে ভরসা দেওয়া—এসব জায়গায় আলিসন ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
ব্রাজিলের হেক্সা মিশন এগিয়ে নিতে আজ আক্রমণের ধার যেমন জরুরি, তেমনি দরকার রক্ষণে শৃঙ্খলা। জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সামুরাই ব্লুদের গতি, পরিকল্পনা ও লড়াকু মানসিকতার সামনে ব্রাজিলের গোলপোস্টে আলিসনের নির্ভরতা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।