গন্ডারের শিং পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ। মাংসের ভেতরে লুকিয়ে ১১ কেজিরও বেশি গন্ডারের শিং পাচারের অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, অবৈধ বন্যপ্রাণী আমদানির সন্দেহে সোমবার ব্যাংককের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ৩৬ বছর বয়সী এক ভিয়েতনামী নাগরিককে আটক করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ একটি পলিস্টাইরিন আইসবক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছয়টি গন্ডারের শিং এবং প্রায় ১২ কেজি অজ্ঞাত মাংস জব্দ করে। কর্মকর্তারা জানান, লাগেজের এক্স-রে স্ক্যানে অনিয়ম ধরা পড়ায় সেটি তল্লাশি করা হয়।
সাইটস বিভাগের পরিচালক সাদুদী পানপাকদি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, জব্দ করা শিংগুলোর বাজারমূল্য বা সেগুলো লুকাতে কী ধরনের মাংস ব্যবহার করা হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন কর্মকর্তারা।
তিনি আরও জানান, আলামতগুলো পরীক্ষার জন্য বন্যপ্রাণী ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ বাত (প্রায় ৩২ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানার বিধান রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আফ্রিকার লুবুম্বাশি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে যাত্রা শুরু করেন। তার চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল লাওস। যাত্রাপথে তিনি ইথিওপিয়া ও থাইল্যান্ড-এ ট্রানজিট করেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ ধরনের গন্ডার প্রজাতি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সুরক্ষিত এবং তাদের শিংয়ের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাচারকারীরা এসব বিপন্ন প্রাণী ও তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এশিয়ার লাভজনক কালোবাজারে সরবরাহ করে থাকে।
সূত্র: এএফপি