একটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান চলাকালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সম্পর্কে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদকর্মী। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ওই মন্তব্যের পর শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হয়েছে তাকে।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মী অ্যাবিগেইল ভেলেজ সরাসরি সম্প্রচারের সময় বলকান অঞ্চলের দেশটি সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা অনেক দর্শকের কাছে অবজ্ঞাসূচক ও তথ্যবিহীন বলে মনে হয়েছে।
দর্শকদের উচ্ছ্বাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তৈরি করা প্রাণবন্ত একটি অনুষ্ঠান মুহূর্তেই বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষ তার বক্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে একটি রাস্তার দর্শক সমাবেশ থেকে তিনি প্রতিবেদন করছিলেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের ম্যাচ শেষে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হচ্ছিল।
সম্প্রচারের এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নকআউট ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, তিনি মানচিত্রে বসনিয়ার অবস্থান দেখাতে পারবেন না এবং দেশটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
তিনি বলেন, `পরবর্তী পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বসনিয়া। আর বসনিয়া সম্পর্কে বিষয়টি হলো—আমি মানচিত্রে দেখাতে পারব না এটি কোথায় রয়েছে।‘
তিনি আরও বলেন, `আমি বসনিয়া সম্পর্কে কিছুই জানি না, আর জানতেও চাই না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দল আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে।‘
এছাড়াও তিনি বলেন, `বসনিয়া প্রস্তুত থাকুক, কারণ তাদের জন্য পরিস্থিতি সহজ হবে না।‘
মন্তব্যের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত সমালোচনা বাড়তে থাকে। অনেক বসনীয় সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক দর্শক মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য ছোট দেশগুলোর প্রতি অবহেলা এবং নেতিবাচক ধারণাকে আরও জোরালো করে।
কেউ কেউ বলেন, খেলাধুলায় মজার ছলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মন্তব্য স্বাভাবিক হলেও একটি দেশকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি অনেক মার্কিন দর্শকও এটিকে অপেশাদার এবং বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন।
সমালোচনা বাড়তে থাকায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান ভেলেজ।
তিনি স্বীকার করেন যে, অনুষ্ঠানে হাস্যরস যোগ করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ভুল করেছেন এবং তার মন্তব্য ছিল অসচেতন ও অনুপযুক্ত।
তিনি বসনিয়ার জনগণ ও দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের কাছেও সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, `বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতাকে একটু আনন্দময় করার চেষ্টায় আমি সীমা অতিক্রম করেছি এবং সম্প্রচারে এমন একটি মন্তব্য করেছি, যা অসংবেদনশীল ও অনুপযুক্ত ছিল।‘
তিনি আরও বলেন, `আমি বসনিয়ার জনগণ এবং দেশটির ফুটবল দলের কাছে ক্ষমা চাইছি। বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্র করা, বিভক্ত করা নয়। কিন্তু আমার মন্তব্য সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।‘
ঘটনার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এখনো চলছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে সরাসরি সম্প্রচারের সময় তাৎক্ষণিক মন্তব্যের ঝুঁকি এবং সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।