জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীরা না থাকায় এবং অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের গল্প করার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় যেকোনো কাজের চেয়ে সংসদ অধিবেশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার শুরুতে এ কথা বলেন স্পিকার।
অধিবেশনের শুরুতে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এক নোটিশে জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে অন্য সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের নাম ও যোগাযোগ নম্বর পাওয়া খুবই জরুরি। সাধারণত শপথ নেওয়ার দুই-এক মাসের মধ্যেই এই ক্যাটালগ বই প্রকাশ করা হলেও এবার চার মাস পার হলেও তা পাওয়া যায়নি।
জবাবে স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় টেলিফোন সহায়িকা ২০২৬ প্রকাশের কাজ চলমান রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এখনো তথ্য না দেওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হলেই যথাসময়ে এই ডাইরেক্টরি প্রকাশিত হবে জানিয়ে দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও সংসদ সদস্য হিসেবে তার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ঋণখেলাপি মামলায় থাকা অন্য দুজন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ও গুজব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
চিফ হুইপ তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, এসব অপ্রাসঙ্গিক ও বাইরের বিষয় নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।
স্পিকার জানান, মির্জা আব্বাস চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে এবং সুস্থ হলে তিনি সংসদে আসবেন।
গুজব বা আদালতে চলমান মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদের সময় নষ্ট করতে পারে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, কোনো সদস্যের সদস্যপদ পদচ্যুত হলে তা যথাসময়ে সংসদকে জানানো হবে।
সংসদে কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ চাঙ্গা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, বিশেষ করে যাদের মন্ত্রণালয় নিয়ে সদস্যরা এলাকার দাবি-দাওয়া বা অভিযোগ তুলে ধরেন, তারা উপস্থিত থাকেন না। একই সঙ্গে সংসদ চলাকালীন অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই চার-পাঁচজন মিলে ছোট ছোট গ্রুপে আলাদা বৈঠক বা আলোচনার কারণে সংসদের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয় বলে তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অধিবেশন কক্ষের ভেতরে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা করা এবং ফ্লোর ক্রসিং বন্ধের কড়া নির্দেশনা দেন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।