বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

বিশ্বকাপে ইতালির ইতিহাস গড়া অভিষেক

প্রতিবেদকের নাম

স্কটল্যান্ড–ইতালি লড়াই মানেই সাধারণত ফুটবল, ফিফা বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। কিন্তু সোমবার সেই চেনা দৃশ্যপট বদলাতে যাচ্ছে। ফুটবল নয়, ক্রিকেটে। ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ইতালি।

চারবারের ফিফা বিশ্বকাপজয়ী একটি দেশের ক্রিকেট বিশ্বকাপ অভিষেক ঘিরে বাড়তি আলোচনাও তৈরি হয়েছে। ইতালির ফুটবল কিংবদন্তি আন্দ্রেয়া পিরলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতালিয়ান ক্রিকেট দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তার বার্তায় ছিল ইতালীয় প্রবাদ ‘বোক্কা আল লুপো’—অর্থাৎ বড় চ্যালেঞ্জের আগে শুভকামনা।

ইডেনে অনুশীলন শেষে ইতালির লোয়ার অর্ডার ব্যাটার মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো জানান, ‘পিরলোসহ আরো কয়েকজনের কাছ থেকে আমরা শুভেচ্ছা পেয়েছি।

এমন সমর্থন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই ইতালির লক্ষ্য কেবল ভালো খেলা নয়, বরং দেশের ফুটবল দলকেও অনুপ্রেরণা দেওয়া। আগামী মাসে ফিফা বিশ্বকাপের প্লে-অফে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে ইতালির ফুটবল দল।

দলটির অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন বলেন, ‘আমরা যদি এমন পারফরম্যান্স করতে পারি, যা আমাদের ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে ওঠার অনুপ্রেরণা দেয়, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে সুন্দর অর্জন।


ইতালিয়ান ক্রিকেটকে যে গুরুত্বের সঙ্গেই নেওয়া হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে প্রাক্‌-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনেও। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের সভাপতি মারিয়া লোরেনা হ্যাজ পাজ, সম্মানসূচক সভাপতি সিমোনে গাম্বিনো এবং সিইও লুকা ব্রুনো মালাসপিনা। ইতালির শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরাও কাভার করেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

সম্মানসূচক সভাপতি গাম্বিনো স্মরণ করেন, ‘একসময় ইতালিতে মানুষই জানত না ব্যাটার আর বোলার একই দলে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর মার্টিন ক্রোর সফরই ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।


যদিও ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেট এখনো ইতালিতে অনেক পিছিয়ে, তবু ম্যাডসেনদের বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপ বদলে দিতে পারে চিত্রটা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে সফরের সময় রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে আলোচনা দলের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়েছে বলে জানান অধিনায়ক।

‘টেলিভিশনে ম্যাচ সম্প্রচার শুরু হলে সমর্থন আরো বাড়বে। আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইতালিতে ক্রিকেটের গতি বাড়বে,’ বলেন ম্যাডসেন।

বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণকেও ইতালির বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি চাপ সামলানোর জন্য প্রস্তুত বলেই বিশ্বাস অধিনায়কের।

ইডেন গার্ডেনে সোমবারের ম্যাচটি তাই শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, ইতালিয়ান ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা