আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশনে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৭–২২ মে অনুষ্ঠিতব্য এ ফোরাম গতকাল জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক আনাক্লাডিয়া রসবাখের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পরে নতুন নগর এজেন্ডা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসা. ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অধিবেশনে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া।
ফোরামে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ ৫৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক ও মানবকেন্দ্রিক নগর গড়ে তোলার বিষয়ে দেশগুলো তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ নতুন প্রণীত স্পেশাল প্ল্যানিং অ্যাক্ট’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে জানায়, সারা দেশে পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই এ আইনের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক এলাকা প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পর মতো বড় প্রকল্প রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ জানায়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইল এলাকায় বস্তি উন্নয়ন উদ্যোগ এবং ফ্লোর এরিয়া রেশিও প্রণোদনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিনিধিদল। সরকারি আবাসন কর্মসূচি, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনায় অগ্রগতি অর্জনের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প’-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া কক্সবাজারে ভূমিধস ও ভূমি অবক্ষয় রোধসহ দেশের বিভিন্ন টেকসই নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্ব ব্যাংক, ইউএনওপিএস এবং ইউনেস্কো-এর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।