বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

হলান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে লিভারপুলের বিপক্ষে সিটির নাটকীয় জয়

প্রতিবেদকের নাম

স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যানচেস্টার সিটিকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন আর্লিং হলান্ড। রোববার অ্যানফিল্ডের এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমে ছয় পয়েন্টে নেমে আসে এবং শিরোপা লড়াইয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পায় পেপ গার্দিওলার দল।

নরওয়েজিয়ান তারকার এটি ছিল চলতি মৌসুমে লিগে ২১তম গোল। ডমিনিক সোবোস্লাইয়ের চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকে ৭৪তম মিনিটে লিভারপুল এগিয়ে যাওয়ার পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের শেষটা টানেন হলান্ড। এর আগে ম্যাচের শেষদিকে বার্নার্দো সিলভা সমতাসূচক গোল করেন।

নাটকীয় শেষভাগে সিটির রায়ান চেরকি হাফওয়ে লাইন থেকে গোল করেছেন বলে মনে হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ওই সময় লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন উপরে উঠে এসেছিলেন, আর বল লাইনের দিকে গড়াতে থাকলে হলান্ড ও সোবোস্লাই দৌড়াতে দৌড়াতে একে অপরের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান। শেষ পর্যন্ত সিটিকে ফ্রি-কিক দেওয়া হয় এবং হলান্ডের শার্ট টানায় সোবোস্লাই লাল কার্ড দেখেন।

এই জয়ের আগে সিটি নয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল। কিন্তু তিন পয়েন্ট পাওয়ায় শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকল গার্দিওলার দল। অন্যদিকে লিভারপুল নেমে গেছে ষষ্ঠ স্থানে, সিটির চেয়ে এখন ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখলে আধিপত্য দেখিয়ে অ্যানফিল্ডের দর্শকদের চুপ করিয়ে দেয় সিটি। দ্বিতীয় মিনিটেই বার্নার্দো সিলভার পাসে গোলের সুযোগ পান হলান্ড, কিন্তু দ্রুত লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে সেই প্রচেষ্টা ঠেকান অ্যালিসন।

জানুয়ারিতে দলে যোগ দেওয়া সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়িহু অ্যানফিল্ডে বল ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের দুয়োধ্বনির শিকার হন। গ্রীষ্মে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে লিভারপুলে সম্ভাব্য কিন্তু ব্যর্থ ট্রান্সফারের স্মৃতি থেকেই এই প্রতিক্রিয়া। তবে চাপ সামলে মোহাম্মদ সালাহ ও হুগো একিতিকের একাধিক আক্রমণ নস্যাৎ করেন ইংলিশ ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধের শেষদিকে সেট-পিস পরিস্থিতিতে সালাহর সঙ্গে সিলভার সংঘর্ষে পেনাল্টির দাবি ওঠে। তবে রেফারি ও ভিএআর—কেউই ফাউলের সিদ্ধান্ত দেননি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে চেহারা বদলে মাঠে নামে লিভারপুল। শুরুতেই ১১ মিনিটে চারটি শট নেয় তারা, অ্যানফিল্ডে ফিরে আসে গর্জন।

একিতিকে দুটি সুযোগ নষ্ট করেন, আর সোবোস্লাই সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে পরীক্ষা নেন। এরপর হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডারের জাদুকরী মুহূর্ত—একটি বাঁকানো ফ্রি-কিক দোনারুম্মার হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

তবে সিটির জবাব দিতে বেশি সময় লাগেনি। দশ মিনিট পর হলান্ডের হেড করা বল ডিফেন্সের ওপর দিয়ে পেয়ে বক্সের সামনে থেকে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা।

ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ে। ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া মাতেউস নুনেসকে বক্সে ফেলে দেন অ্যালিসন। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে অ্যানফিল্ডকে স্তব্ধ করে দেন হলান্ড—এই মাঠে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।

নতুন বছরের পর থেকে লিগে মাত্র একটি গোল পাওয়া হলান্ড উদযাপনে জার্সি খুলে ফেলেন। আর শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ম্যানচেস্টার সিটি—নাটকীয় তিন পয়েন্ট পকেটে পুরে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা