কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি তিন টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার বিল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিপণের দাবিতে তিন দিন আগে নোয়াখালিয়া পাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় কলিম উল্লাহ নামের স্থানীয় যুবককে গাড়িযোগে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ ওই যুবকের বলে ধারণা স্থানীয়দের।
দুর্বৃত্তরা নিহত যুবকের মুখমন্ডল ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিকৃত করে দেওয়ায় নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও বয়স আনুমানিক ২০ বছর হতে পারে বলে জানান ওসি।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার ফসলিক্ষেতের বিলে তিন টুকরো অবস্থায় বস্তাবন্দি মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় বিলে বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে রাখা অজ্ঞাত যুবকের তিনটি বস্তাবন্দি খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়।’
ওসি আরও বলেব, ‘দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে অজ্ঞাত ওই যুবককে হত্যার পর ঘাড়সহ মাথা, গলা থেকে কোমরের ওপর অংশ এবং কোমর থেকে পা পর্যন্ত তিনটি খণ্ডিত অংশ বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখে যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখমণ্ডল বিকৃত করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।’
নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান ওসি।
এদিকে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় কলিম উল্লাহ নামের স্থানীয় এক যুবককে প্রাইভেট নোহাযোগে কতিপয় দুর্বৃত্ত তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কলিম উল্লাহ (২০) একই এলাকার বাসিন্দা মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।
অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে মমতাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার ছেলে কলিম উল্লাহকে তুলে নেওয়ার পর অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল দিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কলিম উল্লাহ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মৃত উদ্ধার যুবককে হত্যার পর তিন টুকরো করা হয়েছে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে নিহতের মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত করে দেয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও নিখোঁজ ছেলের মরদেহ হতে পারে বলে ধারণার কথা বলেন, অপহৃত কলিম উল্লাহর বাবা।
উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি সাইফুল ইসলাম।