প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করে সারা দেশে গোলযোগ সৃষ্টি পায়তারা করছে। যেভাবে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার বলেছিলোখালেদা জিয়া সরকারকে এক মিনিটে শান্তিতে থাকতে দিব না… মনে আছে সেকথা। সেই একই ভূত কিন্তু এদের ওপরেও ভর করেছে। দেখেন কেমন আন্দোলন আন্দোলন কথা বলে আর ব্যক্তি ঘটনাকে কীভাবে রাজনৈতিক রূপ দিতে চায়। ঠিক দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনায় রাজনৈতিক রূপ দিয়ে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল, ১৭২ দিন হরতাল করেছিল মনে আছে নিশ্চয় আপনাদের।’
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সময় এসেছে মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য, মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে যেই জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর হচ্ছে সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কাজেই যে ম্যান্ডেট বাংলাদেশের জনগণ আমাদেরকে দিয়েছে, যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে আমরা দিয়েছি আল্লাহর রহমতে আজকে এই সমাবেশে আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ করতে চাই। প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।’
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরই ভাই, আমি আপনাদের সন্তান, যে পরিকল্পনা বিএনপি নির্বাচনের আগে আপনাদের দিয়েছে সেই পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি… এই কাজগুলো আপনাদের সন্তান হিসেবে, বগুড়ার সন্তান হিসেবে যদি আমি করতে পারি তাহলে নিশ্চয় আপনাদের গৌরব বৃদ্ধি পাবে, প্রতিটি মানুষের গৌরব বৃদ্ধি পাবে। আজ আমি মুরুব্বিসহ মরুব্বী, মা-বোনসহ সকলের দোয়া যেমন চাই, তেমনি আমি আপনাদের সমর্থন চাই, আমি আপনাদের ও মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের সমর্থন চাই।’
বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেল পথ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিজাত উৎপাদিত পণ্যে বিদেশে রপ্তানির বিষয়েও তার সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বাগবাড়ির পৈত্রিক বাড়ি থেকে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউজে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কিছুক্ষণ বিরতি শেষে বিকালে ৫টা ৪৩ মিনিটে জনসভাস্থলে আসেন তারেক রহমান।
সরকার গঠনের পর ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মে গুরুদের মাসিক সন্মানি ভাতা, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, খাল-খনন কর্মসূচি প্রভৃতি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বিএনপির শত শত নেতাকর্মী আন্দোলনে করে নির্যাতিত হয়েছে। আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারো বলে দিতে চাই ,সংসদের দক্ষিণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা ইনশাআল্লাহ এক এক করে বাস্তবায়ন করবো। বারবার পরিষ্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম যে, কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। খেয়াল করে দেখবেন যারা এই সংস্কার সংস্কার কথা বলে জনগণকে তারা বিভ্রান্ত করতে যাচ্ছে। যারা জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোন কথা বলে না, বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে কমিশন করা হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহযোগিতা পেতে পারে সেসব বিষয়ে তারা কোন কথা বলে না।কিভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেইটির কথা তারা বলে না, কিভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে সেইটির কথা তারা বলে না।’
তিনি বলেন, ‘তারা শুধু সংবিধান নিয়ে কথা বলে দেখবেন, কিভাবে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, কিভাবে তারা বিভ্রান্ত করছে. সেই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারো এখন বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে। তারা দুদিন আগের ঘটনা এই গতকালকের ঘটনা ময়মনসিংহের একটি জেলায় একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। এক ছেলে এক মেয়ের সাথে প্রেম করত। তারা বিয়ে শাদী করেছে, তাদের পরিবারের সমস্যা। দেখেছেন আপনারা ফেসবুকে দেখেছেন না? কিন্তু সাথে কি এটাও দেখেছেন? একটি পারিবারিক একটি ব্যক্তি ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা আমরা দেখেছি, তারা কিভাবে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে, ৮৬ সালের সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, তারা কিভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল দেশের মানুষকে, ৯৬ সালেও আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সাথে গিয়ে তারা কিভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি সেই ওয়াল ইলেভেনের সাথে যোগ দিয়ে তারা কিভাবে বিভ্রান্ত করেছিল দেশের মানুষকে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই, কৃষক কাজ করতে চাই, খাল খনন করতে চাই, বৃক্ষরোপণ করতে চাই, দেশের যুবকদের কর্মসংস্থার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাই… এইসব ব্যাপারে তাদের কোনো কথা নেই। দেখেন নাই নির্বাচনের সময় কেমন বলেছিল ‘রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড’…। জনগণের স্বার্থে যেই কাজ সেটিকে তারা রেখে দেয় কিন্তু নিজেদের ক্ষমতা মাধ্যমে ক্ষমতা কিভাবে কুক্ষিগত করতে হবে সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে।’ ওইসব রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জনগণকে ‘সজাগ ও সর্তক’ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বগুড়ার সন্তান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। আজ আমরা দেখছি যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। তারা তো এই দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি, এই দেশের অস্তিত্ তারা বিশ্বাস করেনি। যারা দেশের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করে না তাদেরকে কি বিশ্বাস করা যায়? তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না।’
জেলা সভাপতি বগুড়া-৬ আসনের সাংসদ রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় বগুড়ার সাংসদরা বক্তব্য রাখেন। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রেস ক্লাবের নির্মিত ভবন এবং বায়তুর রহমান সেট্রাল মসজিদের পূণ:নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।